সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
মিফতাহুল জান্নাত ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’র উদ্যোগে একটি লাশ ১৮ হাজার টাকা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় চট্টগ্রাম থেকে কেন্দুয়া নেত্রকোনা পাঠানো হয় : শিক্ষার্থীর সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকা — এম নজরুল ইসলাম খান মিফতাহুল জান্নাত ফাউন্ডেশন’র মানবতার সেবায় আর্থিক সহায়তা প্রদান মিফতাহুল জান্নাত ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’র উদ্যোগে একটি বড় অপারেশনের জন্য মোসাম্মাৎ অনুপা বেগম নামে একজন রোগীকে ২০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হলো: জাতীয় পাবলিক পরীক্ষায় ছেলেদের পিছিয়ে পড়ার ব্যবধান বাড়ছে: কারণ খুঁজে শিক্ষা প্রশাসনকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে –এম. নজরুল ইসলাম খান সমাজ আছে, মানুষ আছে—শুধু কোথায় যেন হারিয়ে গেছে মানবিকতা — জাহাঙ্গীর আলম শহীদ জিয়া আন্তঃস্কুল ফুটবলে জয় পেলো দক্ষিণ পতেঙ্গা চসিক উচ্চ বিদ্যালয় ও মাইজপাড়া মাহমুদন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় : শহীদ জিয়া আন্তঃস্কুল ফুটবলে জয় পেয়েছে দক্ষিণ হালিশহর-বাকলিয়া-শেরশাহ কলোনী ও ছালেহ জহুর চট্টগ্রাম মডেল স্কুলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের এইচপিভি (HPV) টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত : ভোলা ডেভেলপমেন্ট ফোরাম চট্টগ্রাম অঞ্চল’র (২০২৬-২০২৯) নতুন কার্যকরী কমিটির সভাপতি হলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ আমিনুর রহমান লিটন

শিক্ষার্থীর সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকা — এম নজরুল ইসলাম খান

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৪.১৮ এএম
  • ৭ বার পঠিত

মানব সময় ডেস্ক :
শিক্ষা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়। একজন শিক্ষার্থীর মেধা, জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে শিক্ষার্থী নিজে, পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবারই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীর সাফল্যকে শুধু পরীক্ষার নম্বর বা ফলাফলের ভিত্তিতে বিচার করা যথেষ্ট নয়; এর পেছনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পরিবেশকেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে শিশুর শিক্ষাজীবনের সূচনালগ্নে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবা সন্তানের পড়াশোনার খোঁজ রাখছেন কি না, নিয়মিত বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করছেন কি না, শিক্ষকদের পরামর্শ গ্রহণ করছেন কি না, সন্তানের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও সময় নিশ্চিত করছেন কি না—এসবের সঙ্গে তার শিক্ষাগত অগ্রগতি গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিদ্যালয়ে পাঠদান শেষ হওয়ার পর শিশুর শেখা, অনুশীলন ও মানসিক বিকাশের বড় অংশই ঘটে পরিবারে।
অন্যদিকে শিক্ষক শিশুর সম্ভাবনা বিকশিত করার অন্যতম প্রধান কারিগর। একজন দক্ষ শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না; তিনি শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশুর জন্য নিরাপদ, আনন্দময়, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে শিক্ষার্থীর সাফল্যের সঙ্গে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের অবদানও অবিচ্ছেদ্য।
তবে এই দায়িত্ব পরিবার, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের ইতিবাচক পরিবেশ, সামাজিক মূল্যবোধ, সচেতনতা ও সহযোগিতা শিশুর শিক্ষার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একইভাবে রাষ্ট্র শিক্ষা নীতি প্রণয়ন, অর্থায়ন, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়নব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে। তাই একটি শিশুর সাফল্যের পেছনে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও অবদানও স্বীকার করতে হবে।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষার্থীর নিজের চেষ্টা ও আগ্রহ। পরিবার সুযোগ দিতে পারে, শিক্ষক পথ দেখাতে পারেন, প্রতিষ্ঠান পরিবেশ তৈরি করতে পারে, সমাজ সহযোগিতা করতে পারে এবং রাষ্ট্র কাঠামো ও সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে—কিন্তু শেখার আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেই সুযোগকে সাফল্যে রূপ দিতে হয় শিক্ষার্থীকে নিজেকেই।
সুতরাং শিক্ষার্থীর মূল্যায়নেও শুধু তার প্রাপ্ত নম্বর নয়, তার বিকাশের পেছনে থাকা শিক্ষার্থী-পরিবার-শিক্ষক-প্রতিষ্ঠান-সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত অবদান বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়ে আমাদের নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। কারণ একটি শিশুর ভালো ফলাফল যেমন তার নিজের অর্জন, তেমনি এর পেছনে থাকে পরিবারের যত্ন, শিক্ষকের শ্রম, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, সমাজের সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রের শিক্ষা-ব্যবস্থার সম্মিলিত ভূমিকা।
শিক্ষার্থীর সাফল্য তাই কারও একার কৃতিত্ব নয়; এটি সম্মিলিত দায়িত্ব ও সম্মিলিত অর্জন।
(লেখক:সাংবাদিক ও শিক্ষক)

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved  2021 manobsomoy
Theme Developed BY ThemesBazar.Com