মানব সময় ডেস্ক :
শিক্ষা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়। একজন শিক্ষার্থীর মেধা, জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে শিক্ষার্থী নিজে, পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবারই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীর সাফল্যকে শুধু পরীক্ষার নম্বর বা ফলাফলের ভিত্তিতে বিচার করা যথেষ্ট নয়; এর পেছনে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পরিবেশকেও মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে শিশুর শিক্ষাজীবনের সূচনালগ্নে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবা সন্তানের পড়াশোনার খোঁজ রাখছেন কি না, নিয়মিত বিদ্যালয়ে যোগাযোগ করছেন কি না, শিক্ষকদের পরামর্শ গ্রহণ করছেন কি না, সন্তানের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও সময় নিশ্চিত করছেন কি না—এসবের সঙ্গে তার শিক্ষাগত অগ্রগতি গভীরভাবে সম্পর্কিত। বিদ্যালয়ে পাঠদান শেষ হওয়ার পর শিশুর শেখা, অনুশীলন ও মানসিক বিকাশের বড় অংশই ঘটে পরিবারে।
অন্যদিকে শিক্ষক শিশুর সম্ভাবনা বিকশিত করার অন্যতম প্রধান কারিগর। একজন দক্ষ শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়ান না; তিনি শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশুর জন্য নিরাপদ, আনন্দময়, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে। ফলে শিক্ষার্থীর সাফল্যের সঙ্গে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের অবদানও অবিচ্ছেদ্য।
তবে এই দায়িত্ব পরিবার, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের ইতিবাচক পরিবেশ, সামাজিক মূল্যবোধ, সচেতনতা ও সহযোগিতা শিশুর শিক্ষার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। একইভাবে রাষ্ট্র শিক্ষা নীতি প্রণয়ন, অর্থায়ন, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ, পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়নব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে শিক্ষার সামগ্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে। তাই একটি শিশুর সাফল্যের পেছনে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও অবদানও স্বীকার করতে হবে।
সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষার্থীর নিজের চেষ্টা ও আগ্রহ। পরিবার সুযোগ দিতে পারে, শিক্ষক পথ দেখাতে পারেন, প্রতিষ্ঠান পরিবেশ তৈরি করতে পারে, সমাজ সহযোগিতা করতে পারে এবং রাষ্ট্র কাঠামো ও সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে—কিন্তু শেখার আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেই সুযোগকে সাফল্যে রূপ দিতে হয় শিক্ষার্থীকে নিজেকেই।
সুতরাং শিক্ষার্থীর মূল্যায়নেও শুধু তার প্রাপ্ত নম্বর নয়, তার বিকাশের পেছনে থাকা শিক্ষার্থী-পরিবার-শিক্ষক-প্রতিষ্ঠান-সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত অবদান বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়ে আমাদের নতুন করে ভাবা প্রয়োজন। কারণ একটি শিশুর ভালো ফলাফল যেমন তার নিজের অর্জন, তেমনি এর পেছনে থাকে পরিবারের যত্ন, শিক্ষকের শ্রম, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, সমাজের সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রের শিক্ষা-ব্যবস্থার সম্মিলিত ভূমিকা।
শিক্ষার্থীর সাফল্য তাই কারও একার কৃতিত্ব নয়; এটি সম্মিলিত দায়িত্ব ও সম্মিলিত অর্জন।
(লেখক:সাংবাদিক ও শিক্ষক)
Editor : Md.Moslauddin (Bahar) Cell: 01919802081 Dhaka Office :: Manni Tower, Road 09,House : 1258 Mirpur Dhaka. Cell:01747430235 email : manobsomoynews@gmail.com Chattogram office :: Lusai Bhaban,( 2nd Floor) Cheragi Pahar Circle, Chattogram. Cell: 01919802081
© All rights reserved manobsomoy