শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর শিক্ষক: মর্যাদাই ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি —এম নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন আজিজ নগর সাংগঠনিক উপজেলা শাখা আইন হবে সাইবার সুরক্ষার ঢাল: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ —এম নজরুল ইসলাম খান সিডিএ চেয়ারম্যানকে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের স্মারকলিপি বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব-বিজেসি’র ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন চট্টগ্রামে ইয়েস একাডেমির প্রশিক্ষণ এবং গ্রীন শিফা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক এর সাথে চিকিৎসা সেবামূলক কর্পোরেট চুক্তি সম্পন্ন। চট্টগ্রাম মডেল স্কুলে পিটিএ ও স্টুডেন্ট কাউন্সিলের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত: ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব আজকের মানব সময় সাহিত্য প্রকাশিত হলো শিক্ষানবিশ আইনজীবী শারমিন সুলতানা ঝুমুর লেখা “ব্যক্তিত্ব” আমাকে রাজকীয় সম্মান দিয়েছিল ফেনী – নীলিমা আক্তার নীলা আমাকে রাজকীয় সম্মান দিয়েছিল ফেনী – নীলিমা আক্তার নীলা

“শিক্ষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকুক—অন্যায়ের ন্যায়বিচার, অপমান নয়”

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৬.০৩ এএম
  • ৮৫ বার পঠিত

এম নজরুল ইসলাম খান,বিশেষ প্রতিবেদক :
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কেবল জ্ঞান অর্জনের একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি জাতির নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিকতার ভিত্তি নির্মাণের প্রধান মাধ্যম। আর এই মহৎ দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষকরা—যারা নিঃস্বার্থভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম গড়ে তোলেন। তাই শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করা মানে জাতির ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখা।
সম্প্রতি রাজধানীর স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান Wills Little Flower School and College–এর একজন সিনিয়র শিক্ষককে ঘিরে অপমানের অভিযোগ জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সমাজে প্রশ্ন ওঠে—শিক্ষকদের জন্য আমরা কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারছি?
তবে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখযোগ্য যে, যেকোনো অভিযোগ বা ঘটনার ক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত আইন, বিচারব্যবস্থা ও শৃঙ্খলা বিধি অনুসরণ করেই যথাযথ তদন্ত ও বিচার হওয়া আবশ্যক। বিচার বিভাগের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখে বলা যায়, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সকল পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে সত্য উদঘাটন করা জরুরি। এতে যেমন ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থাও সুদৃঢ় হয়।
দুঃখজনকভাবে, বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষকদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ শোনা যায়। এসব ঘটনার সত্যতা যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোনো শিক্ষক যদি অন্যায় করে থাকেন, তার বিচার অবশ্যই আইন অনুযায়ী হবে; আবার কোনো শিক্ষক অন্যায়ের শিকার হলে তার প্রতিকার পাওয়াও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এই ভারসাম্যই একটি সভ্য ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্রের পরিচয়।
বিশ্বব্যাপী International Teachers’ Day উদযাপনের মাধ্যমে শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও সেই চেতনাকে বাস্তব জীবনে প্রতিফলিত করা জরুরি। শিক্ষকরা যদি নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহায়ক পরিবেশে কাজ করতে পারেন, তবে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো জাতির ওপর।
শিক্ষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনি সুরক্ষার যথাযথ প্রয়োগ, অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত, এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি, শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান জরুরি।
শিক্ষকতা কোনো সাধারণ পেশা নয়; এটি একটি জাতি গঠনের মূলভিত্তি। একজন শিক্ষক সম্মানিত হলে সমাজ আলোকিত হয়, আর তাদের প্রতি অবহেলা বা অসম্মান পুরো জাতির অগ্রগতিকে ব্যাহত করতে পারে। তাই রাষ্ট্র, সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষকদের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved  2021 manobsomoy
Theme Developed BY ThemesBazar.Com