
মোহাম্মদ হায়দার আলী,নিজস্ব প্রতিবেদক:
মহান আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত হয়ে প্রেরিত হয়েছিলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (দরুদ)। তিনি এই দূনিয়ায় না আসলে আঁধারে ডুবে থাকত সবই। আল্লাহর পক্ষ হতে ‘নুর” নবী এই ধরাধামে যে দিনটিতে এসেছিলেন সেই দিনে খুশি হয়েছিলেন মানব, জ্বিনপরি, ফিরিস্তা সহ সকল সৃষ্টিকুল। শুধু মাত্র ইবলিশ শয়তান খুশি হতে পারেনি। জানা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দরুদ) ২৯ আগস্ট ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১২ ই রবিউল আওয়াল মাসের সোমবার সুবহে সাদিকের সময় এই পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। মহান আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় হাবীব কে মানব সূরতে রহমত হিসেবে আমাদের নিকট পাঠিয়েছেন সেজন্য খুশি হয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া জানানোর জন্যই আল্লাহর রাসূল (দরুদ) কে স্বালাত সালাম দিয়ে ও নবীজির শানে নাত-খাঁ পেশ করে মুমিন মুসলমানগন যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় এই দিনটি কে পালন ও উদযাপন করে থাকে। এই দিনে ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ), সিরাতুন্নবী(দঃ),শানে রিসালাত মাহফিল সহ নানা নাম দিয়ে দয়াল নবীজি(দরুদ) এর শান-মান ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা সেমিনারের আয়োজন করে।
তারই ধারাবাহিকতায় ‘বাংলাদেশ তরীকত পরিষদ (বিটিপির) আয়োজনে ও নবী দিবস উৎযাপন পরিষদের ব্যবস্হাপনায় গত ২৯ শে আগস্ট ২৬ ইং তারিখে রাজধানী ঢাকায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে ‘ ইয়াওমুন নবী ‘ তথা ‘মহান নবী দিবস’ যেটা কে ১৪৫৬তম সৌরবার্ষিক আবির্ভাব দিবস হিসেবে পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ঢাকা হাইকোর্ট মাজার শরীফ মসজিদ থেকে দুপুর ২ টায় এক বর্ণ্যঢ্য পদযাত্রা বের করা হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন দরবারের পীর সাহেব ও সর্বস্তরের আশেকে রাসুল স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পদযাত্রাটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশ মেডিকল এসোসিয়েশন (বিএমএ) অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিএমএ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মহানবীর আগমনী দিনের তাৎপর্য বিষয়ক সেমিনার।
বিটিপি’র প্রেসিডিয়াম মেম্বার,ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন আল্লামা সূফি ছৈয়দ জাফর ছাদেক শাহ (মাঃ) এর সভাপতিত্বে
ও বিটিপি যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ছৈয়দ ছরোয়ার আলম শাহ মিডুর সঞ্চালনায় আয়োজিত সেমিনারে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেন বিটিপির প্রেসিডিয়াম মেম্বার সৈয়দ আলী রেজা পেহলবী হায়দার ও মুফতি মাওলানা মোখতার রেজা মাসুমী, বিটিপির সভাপতি পীর বশর খান্দানী, সাধারণ সম্পাদক শাহ সুফি শামসুল আলম চিশতী, সহ-সভাপতি দ্বীন মোহাম্মদ চিশতি ও সাত্তার মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল এহসান ফেরদৌস, খুলনার ফকির কদম আলী চিশতি এবং বরিশালের বিশিষ্ট লেখক গবেষক নওশের ফারুকী সহ
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুল উলায়ী, গ্লবাল ইউনির্ভাসিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. আনিসুজ্জামান, ঢাবির আরবি বিভাগের অধ্যাপক বিশিষ্ট নজরুল সঙ্গীত শিল্পী মেহেদী হাসান, কলামিস্ট ড. মাসুম চৌধুরী, লেখক গবেষক মোস্তাক আহমদ, চট্টগ্রাম এডিটর্স ক্লাবের সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক এম আলী হোসেন, বিশিষ্ট ইসলামিক বক্তা শাহ সরোয়ার মোস্তফা আবুল উলায়ী, মোহাম্মদীয়া কাফেলা ঐক্য পরিষদের প্রধান খাদেম এ আর এম কামরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জের ছয়শতির সূফি শেখ আবুল হাতেম আল মাইজভান্ডারি সহ বিভিন্ন পীর মাশায়েকগণ।
উক্ত পদযাত্রা ও আলোচনা সভায় চট্টগ্রাম দরবার শরীফ, চানপাড়া দরবার শরীফ, মাছুমিয়া দরবার শরীফ,লালপুরী দরবার শরীফ,হায়দার আলী শাহ এর দরবার, খানদানি দরবার শরীফ সহ অসংখ্য দরবার ও খানকার সাজ্জাদানশীন সহ বহু শত শত আশেক ভক্তদের মিলন মেলা হয়েছে। একটি বর্নাঢ্য পদযাত্রা শেষ করে আলোচনা সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নৈতিক সচেতনতায় নবী হযরত মুহাম্মদ (দরুদ) এর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ তার শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সর্বদা অনুসরণীয়। পরিশেষে সুলতানুল আরেফিন ক্যাডেট মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকের সমন্বিত দরুদ- ক্বিয়াম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান
ড. শাহ কাওসার মোস্তফা আবুল উলায়ীর মোনাজাতের মধ্যদিয়ে দিনের আয়োজন শেষ হয়।