বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
“প্রাথমিকে ফিরছে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি : শেখার ধারাবাহিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর”- এম নজরুল ইসলাম খান চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় জনসাধারণের নিরাপত্তা ও নাগরিকসুবিধা নিশ্চিত করতে অধিনায়ক র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম, জেলা প্রশাসক, ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কর্তৃক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প পরিদর্শন আজকের মানব সময় মুক্তমতে প্রকাশিত হলো মো: মাইন উদ্দিন হাসান’র লেখা ” ইসলাম প্রচারে বদর আউলিয়া (রহ.) এঁর অবদান” ২৬শে মার্চ: স্বাধীনতার ইতিহাস, সংগ্রাম ও সমকালীন বাংলাদেশের অঙ্গীকার আজকের মানব সময় সাহিত্যে প্রকাশিত হলো নাদিরা খানমএর লেখা “ঈদের ছড়া” বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব’র ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত কুমিল্লা কবি পরিষদের সম্মাননা লাভ করেছেন সুলেখা আক্তার শান্তা | মা ন ব স ম য় কেয়া’র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ: শিক্ষার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল: এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব’র(বিজেসি)বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি | মা ন ব স ম য়

“প্রাথমিকে ফিরছে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি : শেখার ধারাবাহিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর”- এম নজরুল ইসলাম খান

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৩.৫৫ এএম
  • ০ বার পঠিত

মানব সময় ডেস্ক :
২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরের (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে একটি নতুন ও পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ ও সৃজনশীলতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।
সরকারের এই উদ্যোগ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে এখন আর শুধু লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর করা হবে না; বরং ক্লাসরুমে তাদের নিয়মিত অংশগ্রহণ, শেখার অগ্রগতি এবং আচরণগত উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়ন কাঠামো
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী মূল্যায়নের ধরন শ্রেণি অনুযায়ী ভিন্নভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি:
ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০% এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫০%।
তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি:
ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০% এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০%।
এই কাঠামোর মাধ্যমে ছোট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও নমনীয় ও সহায়ক করা হয়েছে।
মূল্যায়নের ধরন ও পদ্ধতি
নতুন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হবে দুইভাবে—
ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment):
ক্লাসে উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ
বাড়ির কাজ ও কাজের খাতা
দলগত কার্যক্রম
আচরণ ও সামাজিক দক্ষতা
সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summative Assessment):
বছরে তিনবার নির্ধারিত পরীক্ষা
লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক মূল্যায়নের সমন্বয়
এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শেখার সার্বিক অগ্রগতি যাচাই করা হবে।
গ্রেডিং ও ফলাফল প্রকাশ
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে গ্রেডিং পদ্ধতিতে—
A (উচ্চতর)
B (ভালো)
C (সন্তোষজনক)
D (অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন)
উত্তীর্ণের শর্ত
পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে—
কমপক্ষে ৮৫% উপস্থিতি
গড়ে ৪০% নম্বর বা ‘C’ গ্রেড
শিক্ষার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির অন্যতম লক্ষ্য হলো—
মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা
শিক্ষার্থীদের স্বাধীন পাঠাভ্যাস (Self-learning) গড়ে তোলা
জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধের সমন্বিত বিকাশ ঘটানো
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং তাদের শেখার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করবে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভূমিকা
এই নতুন মূল্যায়ন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালের এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রাথমিক শিক্ষায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এটি শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষাভিত্তিক না করে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
(লেখক : প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক-চট্টগ্রাম মডেল স্কুল ,মহাসচিব -বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব)

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved  2021 manobsomoy
Theme Developed BY ThemesBazar.Com