মানব সময় ডেস্ক :
২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরের (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হচ্ছে একটি নতুন ও পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতি। এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা, আচরণ ও সৃজনশীলতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।
সরকারের এই উদ্যোগ অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে এখন আর শুধু লিখিত পরীক্ষার ওপর নির্ভর করা হবে না; বরং ক্লাসরুমে তাদের নিয়মিত অংশগ্রহণ, শেখার অগ্রগতি এবং আচরণগত উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শ্রেণিভিত্তিক মূল্যায়ন কাঠামো
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী মূল্যায়নের ধরন শ্রেণি অনুযায়ী ভিন্নভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি:
ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০% এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫০%।
তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি:
ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০% এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০%।
এই কাঠামোর মাধ্যমে ছোট শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও নমনীয় ও সহায়ক করা হয়েছে।
মূল্যায়নের ধরন ও পদ্ধতি
নতুন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হবে দুইভাবে—
ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment):
ক্লাসে উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ
বাড়ির কাজ ও কাজের খাতা
দলগত কার্যক্রম
আচরণ ও সামাজিক দক্ষতা
সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summative Assessment):
বছরে তিনবার নির্ধারিত পরীক্ষা
লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক মূল্যায়নের সমন্বয়
এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শেখার সার্বিক অগ্রগতি যাচাই করা হবে।
গ্রেডিং ও ফলাফল প্রকাশ
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে গ্রেডিং পদ্ধতিতে—
A (উচ্চতর)
B (ভালো)
C (সন্তোষজনক)
D (অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন)
উত্তীর্ণের শর্ত
পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হতে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে—
কমপক্ষে ৮৫% উপস্থিতি
গড়ে ৪০% নম্বর বা ‘C’ গ্রেড
শিক্ষার নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির অন্যতম লক্ষ্য হলো—
মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করা
শিক্ষার্থীদের স্বাধীন পাঠাভ্যাস (Self-learning) গড়ে তোলা
জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধের সমন্বিত বিকাশ ঘটানো
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে এবং তাদের শেখার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করবে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভূমিকা
এই নতুন মূল্যায়ন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ২০২৬ সালের এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রাথমিক শিক্ষায় একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এটি শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষাভিত্তিক না করে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষায় এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
(লেখক : প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক-চট্টগ্রাম মডেল স্কুল ,মহাসচিব -বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব)
Editor : Md.Moslauddin (Bahar) Cell: 01919802081 Dhaka Office :: Manni Tower, Road 09,House : 1258 Mirpur Dhaka. Cell:01747430235 email : manobsomoynews@gmail.com Chattogram office :: Lusai Bhaban,( 2nd Floor) Cheragi Pahar Circle, Chattogram. Cell: 01919802081
© All rights reserved manobsomoy