বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
কেয়া’র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ: শিক্ষার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল: এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের প্রতি বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব’র(বিজেসি)বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি | মা ন ব স ম য় মোহাম্মদ সাঈদুর রহমান সাঈদ কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ৩০ নং ওয়ার্ড পূর্ব মাদারবাড়ি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তিনি সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান : আজকের মানব সময়ে প্রকাশিত হলো মো: মাইন উদ্দিন হাসান এর লেখা ” মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য” সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে বাগেরহাট জেলা ফোরাম চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দের প্রাণবন্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আজকের মানব সময় সাহিত্যে প্রকাশিত হলো আরেফিন শিমুল এর ঈদ নিয়ে কবিতা “ছেলেবেলা আর এ বেলার ঈদ” শ্রমিক সংগঠক মোঃবেলাল হোসেন চট্টগ্রাম জেলা ট্রাক কাভার্ডভ্যান এন্ড মিনিট্রাক মালিক গ্রুপ এর পক্ষে দেশবাসীকে জানান পবিত্র ঈদুল ফিতর এর শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ঈদের শুভেচ্ছা নীল গীরি পরিবহন সংস্থা এর পক্ষ থেকে শ্রমিক সংগঠক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন দেশবাসীকে জানান পবিত্র ঈদুল ফিতর এর শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক :

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল: এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৯.০৯ এএম
  • ৭ বার পঠিত

শিমুল চৌধুরী,ভোলা:
“এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ”। এভাবেই লেখা সাটিয়ে দেওয়া হয়েছে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তালাবদ্ধ এক্স-রে কক্ষটির দরজার সামনে। রোগীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষটিতে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে এক্স-রে করা হচ্ছে না। আর দালালরা সেই সূযোগে তাদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের রোগীদের। ফিল্ম না থাকায় এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে জেলার ১৭ লক্ষাধিক মানুষের এ হাসপাতালে। তাই বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনদের বেসরকারি ক্লিনিক থেকে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে।২৫ মার্চ (বুধবার) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোলা সদরের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নীচতলায় এক্স-রে কক্ষে তালা ঝুলছে। দরজায় সাদা কাগজে টানানো হয়েছে একটি নোটিশ। এতে লেখা আছে “এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ”। এক্স-রে মেশিনের টেকনিশিয়ান ও কক্ষটির ইনচার্জ নুরুল মমিন এবং তার সহকারী সাব্বিরকেও হাসপাতালের কোথাও দেখা যায় নি।
হাসপাতালের ছয় তলায় অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. শুভ প্রসাদের কক্ষের সামনে বেশ কয়েকজন রোগীকে দেখা গেছে অপেক্ষা করতে। এদের কারো হাত ভেঙেছে, আবার কারো পা ভেঙেছে। কথা হয় শহরের গাজীপুর রোডের ব্যবসায়ী বাবুলের সঙ্গে।
বাবুল জানান, গত আড়াই মাস আগে অটোরিকশা থেকে পড়ে তার ডান হাত ভেঙে যায়। এরপর অর্থোপেডিক চিকিৎসকের কাছে এলে তাঁকে এক্স-রে করাতে পরামর্শ দেন। বাবুল বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাহিরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেই অন্তত: পাঁচবার এক্স-রে করাতে হয়েছে। এতে তার তিন হাজার টাকার উপরে খরচ হয়েছে। এছাড়া ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে।অথচ হাসপাতালে এক্স-রে করাতে সরকারি খরচ ছোট ফিল্ম ১০০ টাকা এবং বড় ফিল্ম ২০০ টাকা।
সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের দিনমজুর মো. রহিজল বলেন, রোজার মধ্যে সিড়ি থেকে পড়ে বাম হাত ভেঙে যায়। অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. শুভ প্রসাদকে দেখালে তিনি তাঁকে এক্স-রে করাতে বলেন। হাসপাতালের এক্স-রে করাতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে তিনবার এক্স-রে করাতে ১৫০০ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান রহিজল। হাসপাতালের অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. শুভ প্রসাদ বলেন, এখানে প্রায় প্রত্যেক রোগীরই এক্স-রে লাগে। কিন্তু হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম না থাকায় এক্স-রে হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হয়ে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করান। শুধুমাত্র অর্থোপেডিক বিভাগে তিনি একাই প্রতিদিন প্রায় ১০০ রোগী দেখেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগ-ই হাত-পা ভেঙে যাওয়া রোগী।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় এক বছরের বেশি সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট খাতে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় এবং অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে এক্স-রে ফিল্ম কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও বাইরে থেকে এক্স-রে করতে আসা রোগী ও স্বজনদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।হাসপাতালের দায়িত্বরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সামছুল আলম বলেন, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন বেশ ভালো মানের। কিন্তু আমি এ হাসপাতালে যোগদান করেছি এক বছরের বেশি। ফিল্মের অভাবে এক বছরের অধিক সময় ধরে এ সেবা বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মাঝখানে কিছুদিন ৫২৫ জন হজ্বযাত্রীর জন্য ৫০০ ফিল্ম এসেছিল। এর মধ্যে ২৫ জন হজ্বযাত্রী বাইরে থেকে এক্স-রে করিয়েছেন। কবে নাগাদ ফিল্ম হাতে পাওয়া যাবে সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।হাসপাতালের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওই হজ্বযাত্রীরাও তারা নিজেরা ঢাকা থেকে এক্স-রে ফিল্ম এনে এক্স-রে করিয়েছিলেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.মো:তৈয়বুর রহমান বলেন বলেন, ফিল্মের প্রয়োজন থাকলেও হয়তো দাম বাড়ার কারণে সেটি কেনা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ হলে ফিল্ম পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর নেওয়া হবে। আশা করি দ্রুত এর সমাধান করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved  2021 manobsomoy
Theme Developed BY ThemesBazar.Com