
মানব সময় ডেস্ক :
ভিকটিম মোহাম্মদ সাকিব, পিতা-মোঃ নজুম উদ্দিন, সাং-চররাঙ্গামাটিয়া, থানা-চান্দগাঁও, জেলা-চট্টগ্রাম এর বাসিন্দা। ভিকটিম চান্দগাঁও খানাধীন বিসিক এলাকায় একটি ময়দার মিল ফ্যাক্টরীতে চাকরি করতো। ঘটনার আনুমানিক ৮/১০ দিন পূর্বে বর্ণিত ১নং বিবাদী মোঃ ইমন জনৈক আদনান এর একটি মোবাইল ফোন জোর পূর্বক নিয়ে যায়। ভিকটিম উক্ত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করে এবং এলাকাবাসির সহায়তায় ১নং বিবাদীর হেফাজত হতে মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে আনাকে কেন্দ্র করে বর্ণিত ১ ও ২নং বিবাদীর সঙ্গে ভিকটিমের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন গত ২০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যা অনুমান ১৮২৫ ঘটিকায় ভিকটিম ও তার প্রতিবেশী মোঃ নাবিল হাসান জিসান’ন্বয় ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সাযোগে চান্দগাঁও থানাধীন মোহরা মৌলভী বাজার এলাকা হতে ভিকটিমের বাড়িতে আসার পথে ঘটনাস্থল চান্দগাঁও থানাধীন মোহরা কামাল বাজারস্থ লায়লা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পাকা রাস্তার উপর পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ১-৩নং বিবাদী ও তাদের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা ধারালো চাকু/ছুরি হাতে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে পূর্বের বিরোধের জের ধরে ভিকটিমকে বহনকারী রিক্সার গতিরোধ করে ১নং বিবাদী মোঃ ইমন ভিকটিমের শার্টের কলার ধরে রিক্সা হতে নামিয়ে ধারালো চাকু/ছুরি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ভিকটিমকে অতর্কিতভাবে উপর্যুপরি আঘাত করলে ভিকটিম রাস্তার উপর পড়ে যায়। তখন ১-৩নং বিবাদীসহ ঘটনাস্থলের আশপাশে পূর্ব থেকে অস্ত্রসহ অবস্থান করা অজ্ঞাতনামা বিবাদীরা ধারালো চাকু/ছুরি দ্বারা ভিকটিমকে উপর্যুপরি চাকু/ছুরিকাঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থল হতে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজন ভিকটিমকে গুরুতর জখমপ্রাপ্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করে।
উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহনগরীরর চান্দগাঁও থানায় ০৩ জনকে এজাহারনামীয় এবং ৬/৭জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২১, তারিখ-২১ আগস্ট ২০২৬ইং, ধারা-১৪৩/৩৪২/৩০২/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৭, চট্টগ্রাম এর আভিযানিক দল অদ্য ২৩ আগস্ট ২০২৬ইং তারিখ চট্টগ্রাম জেলা, চট্টগ্রাম মহানগরী এবং কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বর্ণিত মামলার পলাতক অভিযুক্ত ১। মোঃ ইমন (২২), পিতা-মোঃ আইয়ুব, ২। মোঃ রায়হান (২৫), পিতা-মোঃ আইয়ুব, উভয় সাং-জোবরা, থানা-হাটহাজারী, ৩। মোঃ শাহেদ সালমান (২২), পিতা-মোঃ আতাউর রহমান, সাং-চনুয়া, থানা-বাঁশখালী, ৪। মোহাম্মদ হোসেন(২২), পিতা-আঃ হান্নান, সাং-উত্তর মহড়া, থানা-চান্দগাঁও, সর্ব জেলা-চট্টগ্রাম, ৫। হাসান মোহাম্মদ রবিউল (২১), পিতা-মোঃ বাদশা, সাং-উত্তর দরুন পুরান বাতিত, থানা-কুতুবদিয়া, জেলা-কক্সবাজার, ৬। মোঃ সাকিব হোসেন (১৮) পিতা-মৃত শাহাদাৎ হোসেন, সাং-হামিদ জমিদার বাড়ী, থানা-চান্দগাঁও, ৭। মোঃ আছমান (২৩), পিতা- মোঃ উসমান, সাং- নোয়াপাড়া, থানা- রাউজান, এবং ৮। মোঃ ফয়সাল(২৩) পিতা-আবু তাহের, সাং-ইয়াছিন তালুকদার পাড়া, থানা-বোয়ালখালী, সর্ব জেলা-চট্টগ্রামদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় এবং হত্যায় ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরী চাইনিজ কুড়াল ও একটি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের এবং উদ্ধারকৃত আলামত সংক্রান্তে পরর্বতী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।