
বিশেষ প্রতিনিধি: এম নজরুল ইসলাম খান
প্রাথমিক শিক্ষা পদক–২০২৬-এ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কর্মচারী নির্বাচিত হয়েছেন প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই), ফেনীর কম্পিউটার অপারেটর মোঃ ফরিদুল ইসলাম। গত ৮ জুলাই ২০২৬ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক জাতীয় পর্যায়ের বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত ফলাফলে তাকে এ গৌরবজনক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
আগামী ১৫ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পদকপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়ার জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত সবুজায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করবেন, যা বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি—এই তিন ধরনের মোট পাঁচটি বৃক্ষ রোপণের নির্দেশনা দিয়েছে।
মোঃ ফরিদুল ইসলাম ২০১৩ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি “Administration for Service to People” নীতিকে ধারণ করে শতভাগ সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেবা প্রদান করে আসছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৭ সালের ১ মার্চ সুবহে সাদিকের সময়ে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর বাকিলা ইউনিয়নের লোধপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিরাজুল ইসলাম, কাপাইকাপ মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহকারী এবং মাতা ফাতেমা বেগম, গৃহিণী। সাত ভাইয়ের মধ্যে তিনি একজন; তাঁদের কোনো বোন নেই।
এই জাতীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি তাঁর পরিবারে এসেছে আরও একটি গৌরব। তাঁর সহধর্মিণী মোসাঃ কামরুননাহার (মুক্তা) এ বছর কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে চৌদ্দগ্রামের পদুয়া (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
শিক্ষাজীবনে মোঃ ফরিদুল ইসলাম স্থানীয় কাপাইকাপ ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০০১ সালে দাখিল এবং ২০০৩ সালে আলিম পাস করেন। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকায় এসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০০৮ সালে স্নাতক এবং ২০০৯ সালে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে এ দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে আদিল ফারহান বিন ফরিদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে ফাবিহা আকসা বিনতে ফরিদ প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় মোঃ ফরিদুল ইসলাম মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন করেছেন। পাশাপাশি এ অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও দেশ ও জাতির সেবায় আরও সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।