
নজরুল ইসলাম খান,চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রাম মডেল স্কুলে নৃত্য প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় শিক্ষার অঙ্গীকারে শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক বোধ ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চূড়ান্ত পর্ব উপলক্ষে আগেই সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ, অনুশীলন ও প্রাণবন্ত উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলে। মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিভা, শিল্পবোধ ও সৃজনশীলতার পরিচয় তুলে ধরে। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পরিবেশনায় ছিল শৃঙ্খলা, নান্দনিকতা ও শিল্পরুচির সমন্বয়, যা উপস্থিত দর্শক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মডেল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, প্রবন্ধক ও প্রধান শিক্ষক এম নজরুল ইসলাম খান, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ইয়াসমিন ইসলাম মোহাম্মদ, সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ ইলিয়াস, রুমানা পারভীন কনিকা, লাকি দাস, মেহেদী হাসান ছোটন, সুপন দেবনাথ, সানজিদা আক্তার, মোমেনা আক্তার, চৈতি পাল ও মিম আক্তারসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শুভানুধ্যায়ীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং একজন শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশে সংস্কৃতিচর্চা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, সৃজনশীল অনুশীলন ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় অপরিহার্য। নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি, খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ, দলগত চেতনা, নান্দনিক বোধ এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। চট্টগ্রাম মডেল স্কুল শুরু থেকেই বিশ্বাস করে—আনন্দময় শিক্ষা, মূল্যবোধভিত্তিক পাঠদান এবং সাংস্কৃতিক চর্চার সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে আগামী দিনের দক্ষ, মানবিক ও আলোকিত নাগরিক।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নৃত্য প্রতিযোগিতার এ চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে কোনো না কোনো ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে, যাতে অংশগ্রহণের উৎসাহ, আত্মবিশ্বাস ও সৃজনশীল চর্চা আরও বৃদ্ধি পায়। তবে আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান পরবর্তীতে নির্ধারিত তারিখে দাওয়াতপত্র বা নিমন্ত্রণপত্রের মাধ্যমে আয়োজন করা হবে। ওই অনুষ্ঠানে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
নিবন্ধিত সকল প্রতিযোগীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পূর্ব থেকেই আহ্বান জানিয়েছিল। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও সাফল্যমণ্ডিত করেছে। শিক্ষকরা মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলে এবং তাদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
চট্টগ্রাম মডেল স্কুলের এ আয়োজন আবারও প্রমাণ করেছে যে, একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, নৈতিকতা গঠন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাও তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, এ ধরনের সৃজনশীল ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং তাদের দেশ ও জাতির জন্য যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।