
মানব সময় ডেস্ক :
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এবং তা নিয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু মানুষ মেতে উঠেছেন। কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলেই বুঝবেন, কীভাবে একটা সত্য কথাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃত করা হচ্ছে।
আসুন, বিভ্রান্তি দূর করে আসল ঘটনাটি জানি:
১. মেয়রের বক্তব্যটি আসলে কখন ও কোন প্রসঙ্গের ছিল?
গত সোমবার (গতকাল) দুপুরে মেয়র যখন গণমাধ্যমে কথা বলেন, তখন তিনি বলেছিলেন “তদারকির কারণে আজ জলাবদ্ধতা হচ্ছে না।” এবং এটাই ছিল একদম বাস্তব সত্য! সোমবার দুপুর বা বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের কোথাও কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা ছিল না। চসিকের টিম মাঠে সক্রিয় ছিল বলেই সেদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল।
২. পরিস্থিতি কখন এবং কীভাবে বদলাল?
সোমবার রাত ৮টার পর থেকে প্রকৃতির রূপ পুরোপুরি বদলে যায়। শুরু হয় মুষলধারে অতিভারী বর্ষণ। রাত ৯টা নাগাদ কাতালগঞ্জ, চকবাজার ও চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি জমতে শুরু করে। সারারাত ধরে এই রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাত চলায় আজ মঙ্গলবার শহরের অনেক জায়গায় পানি উঠে যায়। গতকাল দুপুরের বক্তব্যকে আজকের পরিস্থিতির সাথে গুলিয়ে ফেলাটা কি স্রেফ অজ্ঞতা, নাকি পরিকল্পিত অপপ্রচার?
৩. ৪২ বছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাত ও বৈশ্বিক বাস্তবতা:
আজকের এই জলাবদ্ধতাকে কেবল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ত্রুটি দিয়ে বিচার করলে প্রকৃতির ওপর অন্যায় করা হবে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, চট্টগ্রামে গত ৪২ বছরের সব রেকর্ড ভেঙে ৪১২.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে! এটি শুধু এই মৌসুমের সর্বোচ্চ নয়, গত চার দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এমন অস্বাভাবিক ও মেঘভাঙা বৃষ্টিপাত হলে পৃথিবীর যেকোনো আধুনিক শহরের ড্রেনেজ সিস্টেমই সাময়িকভাবে ভেঙে পড়তে বাধ্য। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও জোয়ারের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি (Sea-level rising), যা আমাদের ভৌগোলিক বাস্তবতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
৪. বিভ্রান্তি বনাম মাঠের বাস্তবতা:
কিছু ব্যক্তি ও পেজ মেয়রের গতকাল দুপুরের (যখন শহরে পানি ছিল না) বক্তব্যটিকে আজ মঙ্গলবারের জলাবদ্ধতার ছবির সাথে জুড়ে দিয়ে সস্তা ট্রল বানাচ্ছেন। গতকালকের বক্তব্যকে আজকের বলে চালিয়ে দেওয়াটা স্পষ্টতই মিথ্যে ফ্রেমিং এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানি। একদল তথাকথিত “কিবোর্ড ফাইটার” ও স্বার্থান্বেষী মহল মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এই নোংরা রাজনীতিটা করছে।
আসল সত্যটা কী জানেন?
যেই মানুষটাকে নিয়ে এসি রুমে বসে ট্রল করা হচ্ছে, সেই জননেতা ডা. শাহাদাত হোসেন কিন্তু ঘরে বসে নেই। এই চরম দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতেও তিনি দিন রাত কোমর পানি মাড়িয়ে জলাবদ্ধতা কবলিত এলাকা ও সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজে মাঠে থেকে তদারকি করছেন। অথচ কিছু ব্যক্তি একজন মাঠপর্যায়ে দিনরাত পরিশ্রম করা মানুষের আন্তরিকতাকে সস্তা ট্রলের শিকার করছেন।
দুর্যোগ কোনো রাজনীতি চেনে না। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একে অপরকে কাদা না ছুড়ে, আসুন সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করি। গুজবে কান দেবেন না, সত্য জানুন এবং বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থাকুন।