বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
আজকের মানব সময় সাহিত্যে প্রকাশিত হলো শিল্প -সাহিত্য-সংস্কৃতি: অস্তিত্বের নান্দনিক স্বাক্ষর” নিয়ে অন্তরার লেখাটি : আজকের মানব সময় সাহিত্যে প্রকাশিত হলো শিল্প -সাহিত্য-সংস্কৃতি: অস্তিত্বের নান্দনিক স্বাক্ষর ” নিয়ে অন্তরার লেখাটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগর শিক্ষক: মর্যাদাই ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি —এম নজরুল ইসলাম খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন আজিজ নগর সাংগঠনিক উপজেলা শাখা আইন হবে সাইবার সুরক্ষার ঢাল: অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ —এম নজরুল ইসলাম খান সিডিএ চেয়ারম্যানকে আনোয়ারা ফাউন্ডেশনের স্মারকলিপি বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব-বিজেসি’র ৮ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন চট্টগ্রামে ইয়েস একাডেমির প্রশিক্ষণ এবং গ্রীন শিফা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক এর সাথে চিকিৎসা সেবামূলক কর্পোরেট চুক্তি সম্পন্ন। চট্টগ্রাম মডেল স্কুলে পিটিএ ও স্টুডেন্ট কাউন্সিলের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত: ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিশেষ গুরুত্ব আজকের মানব সময় সাহিত্য প্রকাশিত হলো শিক্ষানবিশ আইনজীবী শারমিন সুলতানা ঝুমুর লেখা “ব্যক্তিত্ব”

আজকের মানব সময় সাহিত্যে প্রকাশিত হলো শিল্প -সাহিত্য-সংস্কৃতি: অস্তিত্বের নান্দনিক স্বাক্ষর” নিয়ে অন্তরার লেখাটি :

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২.২৯ পিএম
  • ২ বার পঠিত

শিল্প মানুষের অনুভূতির ভাষা, সাহিত্য তার মননের প্রতিধ্বনি, আর সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের জীবন্ত দলিল। মানুষের যে অনুভূতি উচ্চারণে ধরা দেয় না, শিল্প তাকে রূপ দেয়; যে ভাবনা হৃদয়ের গভীরে নীরবে জন্ম নেয়, সাহিত্য তাকে শব্দের আলোয় উদ্ভাসিত করে। আর যুগে যুগে মানুষের বিশ্বাস, ঐতিহ্য, জীবনবোধ ও সৃজনশীলতার সম্মিলিত প্রবাহে নির্মিত হয় সংস্কৃতির বিস্তৃত ভুবন।একটি জাতিকে জানতে হলে কেবল তার ইতিহাসের পাতা উল্টালেই চলে না; অনুভব করতে হয় তার কবিতার ভাষা, সংগীতের সুর, লোকশিল্পের নকশা এবং উৎসবের অন্তর্নিহিত আনন্দ। কারণ, এসবের প্রতিটি পরতে লুকিয়ে থাকে মানুষের বেঁচে থাকার গল্প, সংগ্রামের স্মৃতি এবং আগামীর স্বপ্ন। বাংলার বাউলের একতারা, লোককবির সহজ উচ্চারণ কিংবা মাটির শিল্পীর নিপুণ সৃষ্টি—সবকিছুতেই প্রতিফলিত হয় এই জনপদের শেকড়ের টান ও জীবনের গভীর দর্শন।
সময়ের পরিবর্তন অনিবার্য। আধুনিকতার বিস্তারে মানুষের জীবনযাত্রা বদলায়, চিন্তার পরিধি প্রসারিত হয়, নতুন সৃষ্টির দ্বার উন্মোচিত হয়। কিন্তু পরিবর্তনের এই যাত্রায় নিজস্ব ঐতিহ্যকে বিস্মৃত হওয়া মানে নিজের অস্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হারিয়ে ফেলা। তাই প্রয়োজন এমন এক দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে আধুনিকতা ও ঐতিহ্য পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সৃজনশীল সহযাত্রী। অন্যের শ্রেষ্ঠত্ব থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের স্বকীয়তাকে সমৃদ্ধ করাই হোক আমাদের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার মূলমন্ত্র।শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি কোনো বিলাসিতার বিষয় নয়; এগুলো মানুষের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত রাখার শক্তি। শিল্প আমাদের সৌন্দর্য চিনতে শেখায়, সাহিত্য প্রশ্ন করতে ও সত্য অনুসন্ধান করতে উদ্বুদ্ধ করে, আর সংস্কৃতি আমাদের শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখে। যে সমাজে সৃজনশীলতার মর্যাদা থাকে, চিন্তার স্বাধীনতা বিকশিত হয় এবং ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত থাকে, সেই সমাজেই মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ অধিকতর অর্থবহ হয়ে ওঠে।পরিশেষে, শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সাধনা আসলে নিজেকে, নিজের সমাজকে এবং নিজের সময়কে নতুন করে আবিষ্কারের সাধনা। সময়ের স্রোতে বহু কিছু মুছে যায়, বহু স্মৃতি হারিয়ে যায় বিস্মৃতির অতলে; অথচ সৃষ্টির ভেতর দিয়ে মানুষের যে চেতনা প্রকাশিত হয়, তা প্রজন্মের পর প্রজন্মে নতুন অর্থ নিয়ে ফিরে আসে।
যে জাতি তার সৃষ্টিকে ভালোবাসে, ঐতিহ্যকে সম্মান করে এবং মননের মুক্তিকে লালন করে, তার পরিচয় কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না—তা ছড়িয়ে পড়ে মানুষের হৃদয়ে, সময়ের প্রবাহে এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved  2021 manobsomoy
Theme Developed BY ThemesBazar.Com