মানব সময় সাহিত্য পাতা :
পিঁপড়ে আমরা সবাই দেখি। কিন্তু কেউ কি খেয়াল করেছেন? পিঁপড়ের সারি খুব ব্যস্ত হয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় একটি পিঁপড়ে আরেকটি পিঁপড়ে মুখোমুখি হয়ে থাকে কয়েক সেকেন্ড! অনেকেই হয়তো জানেন পুরুষ কোকিল মিষ্টি কণ্ঠে ডেকে কাককে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় মেয়ে কোকিলটি যেন ডিম পেড়ে আসতে পারে ওই বাসায়? কথাগুলো আসলো ভাষার কথা থেকে। প্রতিটি প্রাণীর আলাদা আলাদা ভাষা আছে। মানুষের ভাষা তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এই ভাষার এমন শক্তি পোষা প্রাণীগুলো পর্যন্ত বুঝতে সক্ষম তার মালিক তাকে কী বলছে! টিয়ে, ময়না তারা মানুষের ভাষায় কথাও বলতে পারে। মানুষের বলা ভাষাই একমাত্র ভাষা যা সবরকম অনুভূতি প্রকাশ করতে সক্ষম। তবে ভাষা ব্যবহারে দেশে দেশে রয়েছে ভিন্নতা। আঞ্চলিকতাও আছে। বাংলা, আরবি, উর্দু ,হিন্দি, ইংরেজি ভাষাগুলোর ব্যবহার ব্যাপক আকারে হলেও এই ভাষাগুলো অঞ্চল ভেদে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আমেরিকান ইংরেজি আর ইংল্যান্ডের ইংরেজিতে উচ্চারণে ভিন্নতা আছে অনেক শব্দে। আমাদের শুদ্ধ আর আঞ্চলিক বাংলার মতো আরবি, উর্দু, হিন্দি ভাষারও আছে আঞ্চলিক রূপ। ইউরোপ আমেরিকায় যেসব বাংলাদেশি বসবাস করেন, দেখা যায় তাঁদের অনেকেই তাঁদের আঞ্চলিক ভাষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী। এর কারণ, পারিবারিক পরিবেশে আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহার। প্রত্যেক অঞ্চলের ভাষার একটি নিজস্বতা আছে। কথা বলার নিজস্ব একটি ভঙ্গি আছে। আমাদের দেশে বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষায় স্বীকৃতির জন্য আন্দোলন হয়েছিলো। পৃথিবীর কোনো দেশের ইতিহাসে ভাষায় জন্য ভাষার জন্যে আন্দোলন হয়েছিলো কি-না আমার জানা নেই। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের বাংলা ভাষা। কিন্তু দিনে দিনে এই ভাষায় ঢুকে পড়ছে হিন্দি, ইংরেজির সংমিশ্রণ। এর কারণ হয়তো প্রযুক্তি। যখন থেকে এন্ড্রয়েড ফোন, ল্যাপটপ, ট্যাব জাতীয় প্রযুক্তি হাতে পেয়েছে প্রজন্ম তারা বই থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কোরিয়ান সিরিয়াল, ইংরেজি মুভি, টিকটক, সর্ট ভিডিওতে আসক্ত প্রজন্ম অমর একুশে বইমেলায় যায় বই নিয়ে ছবি তুলতে! এরমধ্যেও কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। যারা বই পড়তে পছন্দ করে। আবার অনেক ইউনিভার্সিটি পড়া শিক্ষার্থী ই-বুক পড়তে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে এই যে বইমেলা, এতো এতো বই প্রকাশ, কী হবে এসবের? প্রশ্নটা আমারও। কিন্তু আমি হতাশ হতে চাই না। আমরা দেখি, আমাদের বাচ্চারা খুব আগ্রহ করে, কান্নাকাটি করে যে খেলনাটি কিনে কয়েকদিন পর সেটি ফেলে রাখে একদিকে। আমি আশাবাদী, আমাদের সন্তানরাও একদিন বিরক্ত হয়ে ফেলে রাখবে ইলেকট্রনিক ডিভাইস। সংমিশ্রণে রোগাক্রান্ত হয়ে যাওয়া বাংলা ভাষাকে আবার পুনরুদ্ধার করতে জেগে উঠবে কোনো প্রজন্ম। বাংলা ভাষায় লেখা বই হাতে নিয়ে তারা বলবে, এই বই পড়তে গিয়ে চোখ ব্যথা, মাথা ব্যথা হয় না। পাতা মুড়ে রেখে পড়া যায় যেখানে থেমেছি সেখান থেকে।