
মানব সময় সাহিত্য সংস্কৃতির :
মনে পড়ে সেই ছোটবেলায় আমরা মাসে একবার বাংলা ছায়াছবি দেখতাম। কী অসাধারণ সুন্দর সেই সত্তর আর আশির দশকের সামাজিক ছবিগুলো। শাবানা ম্যাম,ববিতা ম্যাম, কবরী ম্যাম,সেই সাথে নায়করাজ রাজ্জাক স্যার নায়ক আলমগীরের কী অসাধারণ অভিনয়। তারও আগে নায়িকা শবনম আর নায়ক রহমান বাংলা ছবিকে অনন্য করে তুলেছিলেন।সেই সাথে তখন বাংলা ছবির জন্য গান লিখতেন আর সুর করতেন ভালো, গীতিকার, সুরকার, এর মধ্যে ওস্তাদ সত্য সাহা, ওস্তাদ আলাউদ্দিন আলী, গাজী মাযহারুল আনোয়ার, খান আতা, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল অন্যতম, গায়কের মধ্যে, বশির আহমেদ,,সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা এন্ড্রুকিশোর, সৈয়দ আবদুল হাদি, খুরশিদ আলম,মীনা বশির,নীলুফার ইয়াসমীন সহ অনেক গুণীজন।বর্তমানে ভালো মানের কোনও ছবিও নেই, নেই ভালো মানের গীতিকার ও সুরকার। সেই সাথে বর্তমান ছবিগুলো যেনো হাসির খোরাক জোগায় অনায়াসে। বশির আহমেদের কণ্ঠে অনেক সাধের ময়না আমার, সুবির নন্দীর কণ্ঠে হাজার মনের কাছে,সৈয়দ আবদুল হাদির কণ্ঠে এমনোতো প্রেম হয়,সহ অনেক জনপ্রিয় গানের মতো গান এখন আর কেউ নির্মাণ করতে পারেন না।কোথায় হারিয়ে গেলো প্রবাল চৌধুরীর আমি ধন্য হয়েছি ওগো ধন্য গানটি অথবা নন্দিত আঞ্চলিক শিল্পী শেফালী ঘোষের তুনি যে আমার জীবনের উপহার গানটি। এখনকার গানের চাইতেও নোংরা অঙ্গ ভঙ্গিতে মেতে ওঠেন শিল্পীরা।এখনকার ছবি পরিবার নিয়ে দেখার মতো নয়। গানও শোনার মতো রুচিসম্মত নয়। মনের মতো বৌ ছবিতে খান আতা ও অভিনেত্রী সুচন্দার কী অসাধারণ অভিনয়। সেই সাথে গান একি সোনার আলোয় ভরিয়ে দিলে। নীল আকাশের নীচে ছবিতে কবরী, রাজ্জাাকের অনন্য রসায়ন এখনো মনে দাগ কেটে আছে।ভাত দে,বড়ো ভালো লোক ছিলো,স্বরলিপি, জীবন থেকে নেওয়া ছবিগুলো আর ফিরে পাবোনা। সেই সাথে পাবোনা শহীদ জহির রায়হানের মতো শক্তিশালী মেধাবী নির্মাতা।পাবোনা মেঘের অনেক রংয়ের মতো ছবি।বর্তমানে শিশুদের নিয়েও শিশুতোষ ছবি তৈরি হয়না।ছুটির ঘন্টা, দীপু নাম্বার টু আর কখনো ফিরে পাবোনা।সেই সাথে হারিয়ে গেছো কৌতুক অভিনেতা দিলদার ও টেলিসামাদ। যারা কৌতুকে জাগিয়ে রাখতো দর্শকদের। রামের সুমতি ছবি অথবা চাঁপাডাঙার বউ ছবিটির অভিনেতা, অভিনেত্রী আর কী খুঁজে পাবো এই অস্থির সময়ের বাংলা ছবিতে। কুংফু কন্যা রনজিতা আর ওস্তাাদ জাহাঙ্গীরকে আমরা ভুলেই গেছি। আমরা ভুলে গেছি শাবনাজ নাইমের মতো জুটি ও অমর নায়ক সালমান শাহকে।আমরা আমাদের বাংলা ছবিকে যেভাবে এগিয়ে নেবার কথা ছিলো সেভাবে প্রযোজক, পরিচালক কেউ নিতে পারিনি। বাংলা ছবিতে আমরা ঢুকিয়েছি নকল,অনুকরণ। যেভাবে সত্তর ও আশির দশকের ছবিতে সৃজনশীলতা থাকতো বর্তমানে সেই সৃজনশীলতা নেই। কখনো আমরা নকল করছি ভারতীয় ছবি, কখনো কেরালা, তামিল তেলেগু ছবিকে।চাইলেই আবারো বাংলা ছবিতে জোয়ার আনা সম্ভব রুচিসম্মত ছবি আর ভালো গান নির্মাণ করে। এখনকার ক্যামেরা প্রযুক্তি সবকিছুই আধুনিক। সেই সাথে এগিয়ে আসতে হবে এফডিসি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে। আমরা চাই সারেং বউ, সুজনসখীর মতো ছবি, আমরা চাই নায়ক ফারুকের মতো অভিনেতা, আমরা চাই একজন শিশু মাস্টাার শাকিল নয়তো দীপুকে। তবেই বাংলা ছবিতে আবারও দর্শক হলে ফিরবে।আবারও সোনালি অতীতকে আমরা ফিরে পাবো।