
সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়—এটি রাষ্ট্র ও সমাজের বিবেক জাগ্রত রাখার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা নিপীড়নের তথ্য অনুসন্ধান করে সাংবাদিক নাগরিকের জানার অধিকার ও রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন। তাই স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি।
সাইবার অপরাধ দমন অবশ্যই প্রয়োজন। হ্যাকিং, প্রতারণা, পরিচয় চুরি, সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, শিশুদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল অপরাধ ও অবকাঠামোয় হামলা থেকে নাগরিককে সুরক্ষা দিতে কার্যকর আইন দরকার। তবে অপরাধ দমন করতে গিয়ে যেন সত্য অনুসন্ধানকারী সাংবাদিকের কণ্ঠ রুদ্ধ না হয়। আইনের অস্পষ্টতা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং ‘গুজব’, ‘ভুল তথ্য’, ‘হেয়প্রতিপন্ন’ বা ‘মানহানি’র মতো ধারণার অপপ্রয়োগ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় ভয়ের সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে পারে।
টিআইবি ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খসড়া সংশোধনীতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে; BLAST-ও সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সমালোচনার সুরক্ষা স্পষ্ট করার সুপারিশ করেছে।
২৮ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার গণমাধ্যমকে লক্ষ্য করে আইনটি করতে চায় না এবং সাংবাদিক হয়রানিও চায় না। খসড়া পর্যালোচনায় সাংবাদিক ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার কথাও জানানো হয়েছে। এখন সেই আশ্বাসের প্রতিফলন আইনের ভাষায় নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে সাংবাদিকতার স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্বও আছে—তথ্য যাচাই, নৈতিকতা, নিরপেক্ষতা, উৎসের গোপনীয়তা ও জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধতা। স্বাধীনতা কখনো যাচাইহীন তথ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের লাইসেন্স নয়।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনে প্রকৃত সাইবার অপরাধ দমন, নাগরিকের ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং বৈধ মতপ্রকাশ ও জনস্বার্থের সাংবাদিকতার সুরক্ষা—তিনটিই নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য স্পষ্ট জনস্বার্থ সুরক্ষা এবং গুরুতর আইনি পদক্ষেপে স্বাধীন বিচারিক তদারকি থাকলে আইন সত্যিই সাইবার সুরক্ষার ঢাল হবে, ভয়ের কারণ নয়।