
বিশেষ প্রতিনিধি,এম নজরুল ইসলাম খান :
৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ, শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন দিগন্ত।একজন শিক্ষক কেবল পাঠদানকারী নন; তিনি জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর। কিন্তু যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া একজন শিক্ষকের পক্ষে কার্যকর শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা, শিক্ষার্থীর মনস্তত্ত্ব বোঝা, পাঠ পরিকল্পনা তৈরি, আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি প্রয়োগ এবং শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন। প্রশিক্ষণই একজন শিক্ষককে তার জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বাস্তব প্রয়োগে রূপ দিতে সহায়তা করে।
শিক্ষাবিদদের মতে, “প্রশিক্ষণ শিক্ষকের কর্মকে ত্বরান্বিত করে এবং তার জ্ঞানকে বাস্তব প্রয়োগে কার্যকর করে তোলে।” কারণ কেবল জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়; সেই জ্ঞানকে শিক্ষার্থীর উপযোগী করে উপস্থাপন করার জন্য প্রয়োজন পেশাগত প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক দক্ষতা।
বাংলাদেশের অধিকাংশ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে কিন্ডারগার্টেন ও নন-এমপিওভুক্ত স্কুলগুলোতে এখনও বিপুল সংখ্যক শিক্ষক পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়াই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে “বাংলাদেশ বেসরকারি স্কুল বোর্ড” দেশব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বোর্ডের পক্ষ থেকে ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ২৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মনিরুজ্জামান এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শিক্ষাবিষয়ক লেখক ও সংগঠক এম নজরুল ইসলাম খান।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সকল বেসরকারি স্কুল, কিন্ডারগার্টেন ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি, ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্ট, শিক্ষার্থীর আচরণগত উন্নয়ন, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষকের দায়িত্ব ও পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে কার্যকর ধারণা প্রদান করা হবে।
বাংলাদেশ বেসরকারি স্কুল বোর্ডের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, প্রশিক্ষিত শিক্ষক ছাড়া টেকসই ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সারাদেশে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ বা বিস্তারিত তথ্যের জন্য সংগঠনের নিম্নোক্ত নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে