
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি:৯ মার্চ (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে দূর্গম পাহাড়ী এলাকার দূর্ধর্ষ অপরাধীদের আস্তানা নির্মূল ও অবৈধ পাহাড় দখলদারদের উচ্ছেদে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী,বিজিবি,পুলিশ যৌথ বাহিনী। সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাত ফজরের নামাজের পরপরই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এই বিশাল অভিযান শুরু হয়। অভিযানে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। পুরো এলাকাটি বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর কর্ডোনে রয়েছে।
অভিযানের কৌশল হিসেবে জঙ্গল সলিমপুরের প্রতিটি প্রবেশ ও বাহিরের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি, যাতে অভিযান চলাকালে কোনো চিহ্নিত অপরাধী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। এছাড়া মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নিয়োজিত রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডগ স্কোয়াড।অভিযানে ট্যাংক,জলকামান,ডোন, ডক স্কোয়ার্ড সহ আধূনিক প্রযক্তি ব্যবহার করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে ও সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম প্রতিনিধি কে জানায়, অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১৮০০ পুলিশ, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র্যাব এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এটিই সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত অভিযান। মূলত গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর একজন নায়েব সুবেদার নিহত হওয়ার পর থেকেই সরকার এখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করে। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই কমান্ডো স্টাইলের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।সীতাকুণ্ডের এই ৩ হাজার একর পাহাড়ি জনপদ দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধীদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। প্রায় দুই লাখ মানুষের এই বিশাল বসতিকে পুঁজি করে বর্তমানে কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ, স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধ প্লট বাণিজ্য ও পাহাড় দখলের রাজত্ব কায়েম করেছে। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইতিপূর্বে ২০১৭ ও ২০২২ সালেও প্রশাসন অভিযান চালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গড়তে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, এই অভিযান মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত চলতে পারে। সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব আর অপরাধের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ করে তোলাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য,২০২২ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল। এই এলাকায় নতুন জেলখানা,হাসপাতাল,ষ্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাস্তুহারাদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নির্মানের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। সন্ত্রাসীদের গড় ফাদার সীতাকুণ্ড উপজেলা সাবের চেয়ারম্যান এম এম আল মামুন সুকৌশলে জেলা প্রশাসককে বদলি করিয়ে সরকারের পরিকল্পনা নসাৎ করে দেন বলে একটি সূত্রে প্রচার রয়েছে। বর্তমান সরকার ও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বন্ধ পরিকর বলে সূত্র জানা গেছে।