সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম ::
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বিভাগীয় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক সম্মেলন ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন: সেবায় এগিয়ে আসার আহবান আজকের মানব সময় আইন আদালতে প্রকাশিত হলো এ্যাডভোকেট শাহানারা খাতুন (শানু)’র লেখা বর্তমানে বাংলাদেশে মুসলিম বিয়ের নিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন চসিকের স্বাধীনতা বইমেলার আলোচনা সভায় আবু সুফিয়ান এমপি বলেন “বই মেলা হচ্ছে সাহিত্যের বিশাল সমাবেশ” বাগেরহাট জেলা ফোরাম, চট্টগ্রামের ঈদ পুনর্মিলনী ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত | m a n o b s o m o y শান্তিপূর্ণ রাজনীতির বার্তা : ঈদ পুনর্মিলনীতে বিএনপির প্রতি জামায়াতের আহ্বান | m a n o b s o m o y আজকের মানব সময় আইন আদালতে প্রকাশিত হলো এ্যাডভোকেট শাহানারা খাতুন (শানু)’র হিন্দু নারী ১ম স্বামী থামা অবস্থায় ২য় বিয়ে করলে স্বামীর আইনী অধিকার নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন | m a n o b s o m o y “শিক্ষার ধারাবাহিকতা সংকটে: মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে করণীয়” – এম নজরুল ইসলাম খান |manobsomoy ‎সুলতানুল আরেফীন ক্যাডেট মাদ্রাসা (দাখিল)’র  “বার্ষিক শিক্ষা সফর ২৬” সম্পন্ন | manobsomoy চট্টগ্রাম জেলার বাশঁখালী থানার চাঞ্চল্যকর মাকে গলা কেটে হত্যা মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি ঘাতক ছেলে মোঃ কাশেম এবং তার স্ত্রী’কে গ্রেফতার করেছেন র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম এবং র‍্যাব-১৫, কক্সবাজার এর যৌথ আভিযানিক দল আজকের মানব সময় আইন আদালতে প্রকাশিত হলো এ্যাডভোকেট শাহানারা খাতুন (শানু)’র লেখা সিএস,আর এস নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন :

পরিচ্ছন্ন বিভাগের সভায় বক্তব্য রাখছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ৩.২০ পিএম
  • ২৩ বার পঠিত

সিটি প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি ঘর থেকে নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনো এজেন্ট বা ভেন্ডার কাজ না করলেও সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা বসে থাকবে না—ডোর টু ডোর গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করতেই হবে। বৃহস্পতিবার সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সভায় মেয়র বলেন, “ডোর টু ডোর বর্জ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মচারী নিয়োজিত আছে। তাদের মূল দায়িত্বই হচ্ছে বাসা বাসা গিয়ে ময়লা নেওয়া। এজেন্সি বা ভেন্ডাররা সহায়ক শক্তি (অক্সিলারি ফোর্স), মূল দায়িত্ব আমাদের কর্মীদেরই পালন করতে হবে।”
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে—কোথাও তিন-চার দিন পরেও ময়লা তোলা হচ্ছে না। একাধিক ওয়ার্ডের উদাহরণ টেনে মেয়র বলেন, “এই ধরনের অবহেলা আমি বরদাস্ত করবো না। সুপারভাইজাররা দায়িত্বে অবহেলা করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে৷ ”সভায় মেয়র স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ভেন্ডার বা এজেন্ট যদি কোনো এলাকায় কাজ না করে বা ময়লা না তোলে, তাহলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা সরাসরি গিয়ে ময়লা সংগ্রহ করবে। প্রয়োজনে কাজ না করা ভেন্ডারদের চুক্তি বাতিল করার কথাও জানান মেয়র।
মেয়র আরও বলেন, আগের মতো প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত তদারকি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোথাও ময়লা না তুললে সঙ্গে সঙ্গে সুপারভাইজারদের গিয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ডাস্টবিন পুনঃস্থাপন করতে হবে। পুরোনো ডাস্টবিন অপসারণ করা যাবে না, আগে যেভাবে ছিল সেভাবেই রিপ্লেসমেন্ট দিতে হবে।
সভায় বর্জ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত গাড়ি চালনা নিয়েও কঠোর অবস্থান নেন মেয়র। তিনি বলেন, “কোনো অবস্থাতেই হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। ড্রাইভারের বদলে হেলপার গাড়ি চালাতে দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারের চাকরি যাবে।” জনবল বণ্টন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ওয়ার্ডের আয়তন ও জনসংখ্যা অনুযায়ী পরিচ্ছন্ন কর্মী বণ্টন করতে হবে। কোথাও অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি কর্মী, আবার কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় কম কর্মী—এই অসামঞ্জস্য দ্রুত ঠিক করার নির্দেশ দেন তিনি।মশক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, শুধু ওষুধ ছিটালেই হবে না; আগে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। বর্জ্য অপসারণের সঙ্গে মশক নিধন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালনা করলে তবেই কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।
সভা শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমার একটাই লক্ষ্য—চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা। এই কাজে কোনো গাফিলতি, অলসতা বা অবহেলা বরদাস্ত করা হবে না। সবাইকে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে মাঠে কাজ করতে হবে।”
চট্টগ্রাম নগরে অবৈধ হকার ব্যবসা নিয়ে পরিচ্ছন্ন বিভাগের ওয়ার্ড সুপারভাইজারদের তিনি বলেন, ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধভাবে হকার ব্যবসা রোধে ওয়ার্ড সুপারভাইজারদের ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় মেয়র বলেন, “ফুটপাত দখল, অবৈধ হকার বসানো কিংবা এদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা—কিছুই বরদাস্ত করা হবে না। কোথাও যদি আমি উচ্ছেদ করে দিয়ে আসার পর আবার হকার বসে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সুপারভাইজারের ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হবে।”মেয়র আরও বলেন, কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা মহল চাপ সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিকভাবে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। বিষয়টি গোপন রাখা বা দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “চাপের কথা আমাকে জানালে আমি ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। কিন্তু জানানো ছাড়া অবৈধ হকার বসতে দিলে কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না।”পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নগরের শৃঙ্খলা রক্ষাও সুপারভাইজারদের দায়িত্ব উল্লেখ করে মেয়র বলেন, অবৈধ হকারদের কারণে জনদুর্ভোগ, যানজট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই নিয়মিত তদারকি, ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ দেন তিনি।
“চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দায়িত্বশীলতা ও সততা প্রয়োজন। দায়িত্বে অবহেলা করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আমি এক মুহূর্তও দ্বিধা করবো না।”
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোঃ শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ) সহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা -কর্মচারীবৃন্দ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved  2021 manobsomoy
Theme Developed BY ThemesBazar.Com