
মানব সময় সাহিত্য ডেস্ক:
আবৃত্তি একটি বলিষ্ঠ শিল্প মাধ্যম। এবং এটি আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির সাথে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে জড়িত।ছোটবেলা থেকেই যখন আমরা,বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, সতেন্দ্র নাথ দত্ত,যতীন্দ্র মোহন বাগচি, কবি সুফিয়া কামাল,সুকুমার রায়, ছড়া সম্রাট সুকুমার বড়ুয়ার ছড়াগুলো পড়তাম, মনের অজান্তেই এসব ছন্দে, ছন্দে আবৃত্তি হয়ে যেতো। কবিতার সাথে কবির যেমন ভাব তেমনি একটি ভালো কবিতা বা কবিতার সাথে আবৃত্তি শিল্পীদের একটা গভীর মন যোগাযোগ আছে। কখনো আবৃত্তি শিল্পীরা সেটা প্রকাশ করে একক কবিতা আবৃত্তি করে, কখনো দলীয় পরিবেশনা বা বৃন্দ আবৃত্তির মাধ্যমে সেটা হয়ে ওঠে শ্রুতিমধুর।আমাদের দেশে গান, নাচের পাশাপাশি আবৃত্তি শিল্পীরা আবৃত্তিকে ধরে রেখেছে সাংগঠনিক চর্চার মাধ্যমে। বাংলাদেশের ৬৪জেলাতেই রয়েছে ছোট, বড় অসংখ্য আবৃত্তি সংগঠন।জাতীয় দিবস ও নানা উৎসবে আবৃত্তি শিল্পীরা আবৃত্তি পরিবেশনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে নিয়ে গেছে আবৃত্তি প্রেমীদের মন ও মননের দোরগোড়ায়। কখনোবা প্রতিবাদী কবিতাকে কণ্ঠে ধারণ করে সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে আবৃত্তি শিল্পীরা।কখনো একুশের কবিতা,কখনো স্বাধীনতা দিবসের কবিতা,কখনো বিজয়ের কবিতা অথবা মে দিবসের কবিতাকে কণ্ঠে তুলে নিয়ে আবৃত্তি শিল্পীরা প্রমাণ করেছে গান ও নাচের পাশাপাশি আবৃত্তিও একটি বলিষ্ঠ শিল্প মাধ্যম। আবৃত্তির মাধ্যমে এক জেলার আবৃত্তি শিল্পীীদের সাথে যেমন অন্য জেলার আবৃত্তি শিল্পীীদের মধ্যে একটা সুন্দর মিলনমেলা হয় তেমনি নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবিতাকে শ্রুতিমধুর করে পরিবেশন করে কণ্ঠের কারিশমা ও কৌশলগত ওঠানামায়।নব্বই দশকের আন্দোলনে, সংস্কৃতি কর্মীদের পাশাপাশি আবৃত্তি শিল্পীরা আবৃত্তি নিয়ে সোচ্চার ছিলো রাজপথে,শিল্পকলা, থিয়েটার,পথ আবৃত্তি দিয়ে তারা নিজের অবস্থান থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছিলো।সহজ ভাষায় বলা যায় আবৃত্তি একটি প্রতিবাদী মাধ্যমও বটে।কিন্তু সম্প্রতি এই আবৃত্তি শিল্প ও শিল্পীদের ধ্বংস করার জন্য শিল্পকলা একাডেমি থেকে আবৃত্তি বিভাগ বাদ দেয়া হলো যা আমাদের সংস্কৃতির জন্য ঘোর অশনি সংকেত।আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।কারণ মানুষ পেটের ক্ষুধায় খাবার খায় আর মনের ক্ষুধা মেটাতে আবৃত্তি শোনে,চর্চা করে।আমরা চাই আবৃত্তি বিভাগ স্বপদে বহাল হবে।আমাদের ছেলে,মেয়েরা কণ্ঠশীলনের জন্য আবৃত্তি চর্চা করবে।আবৃত্তি চর্চা করবে শুদ্ধ উচ্চাারণে কথ বলার জন্য। কণ্ঠের জড়তা দূর করার জন্য, আবৃত্তি চর্চার জন্য এবং সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ আবৃত্তি দিয়ে করার জন্য। কাজেই আমরা শিল্পীরা যদি এক হই তাহলে রক্ষা করতে পারবো আবৃত্তি শিল্পকে।জাগিয়ে তুলতে হবে আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদকে,জাগিয়ে তুলতে হবে আমাদের শৈল্পিক বোধ ও সৃষ্টিকে, পরিশেষে বলতে চাই আবৃত্তির মাধ্যমে আবার জমবে মেলা, বটতলা হাটখোলা সেদিন বেশি দূরে নয়।