
মানব সময় ডেস্ক :
“প্লাস্টিক দুষণ আর নয়, বন্ধ করার এখনই সময়” এই স্লোগানকে সামনে রেখে অদ্য ১৫-০৩-২০২৬ ইং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ কর্ণফুলী এরিয়া প্রোগ্রাম,চট্টগ্রাম এর সহযোগিতায় ও স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন এর বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর 38 ও 39নং ওয়ার্ড এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের অংশগ্রহনের মাধ্যমে পরিবেশ দুষণ রোধে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বোতল সংগ্রহ কার্যক্রম স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন এর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত প্রচার অভিযানে প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহার পরিবেশ ও মানব জীবনের জন্য কতোটা ক্ষতিকর এই বিষয়ে প্রচারণা করা হয়। প্রচারাভিযান এর অংশ হিসেবে প্লাস্টিক বোতল ও দীর্ঘমেয়াদী প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবহারে মানুষের শরীরে ক্ষতিকর বিষয়ে সচেতন করা হয়।
স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, অফিস হোক কিংবা বাসা সব খানেই আমরা প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করি। কেননা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি নিত্য ব্যবহায্য জিনিসপত্র খুবই সহজলভ্য এবং দামেও সস্তা। কিন্তু আমরা জানিনা হাতের কাছে থাকা এসব প্লাস্টিকের বোতলে পানি পানের ফলে আমাদের রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। গবেষণা বলছে, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানি পান করলে সেই প্লাস্টিকের কণাগুলো শরীরে ঢুকে রক্তের সঙ্গে মিশে যায়। শরীরে টক্সিন বা দূষিত পদার্থের মাত্রাও বহুগুণে বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়তে পারে হার্টেও। আবার নিয়মিত প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান করলে কিডনির সমস্যাও হতে পারে। বাজারে যে পানির বোতল বিক্রি করা হয়, তার অধিকাংশই একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকে তৈরি। শুধুমাত্র আমাদের অজ্ঞতা আর সচেতনতার অভাবে এই ধরনের বোতলে করে আমরা দিনের পর দিন পানি পান করছি আর নিজের শরীরে ক্যানসারের আশঙ্কা বৃদ্ধি করছি। তিনি সকলকে প্লাস্টিকের বিকল্প ব্যবহারের প্রতি উদ্ধুদ্ব করেন এবং পরিবারের ছোট বড় সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি জনস্বার্থে জনকল্যাণমুখী কাজে সহযোগিতা করার জন্য ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জনাব ডেনিস তপ্ন তাঁর বক্তব্যে বলেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সবসময়ই জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমুখী কাজে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ আমাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিক সামগ্রীর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আমাদের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই পরিবেশ সুরক্ষায় আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি বলেন ওয়ার্ড ভিশন এর পক্ষ থেকে এই ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং পরিবেশ সুরক্ষায় গৃহীত উদ্যোগসমূহ ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে এবং জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ চলমান থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি কার্যক্রমটির সফল বাস্তবায়নকারী সংস্থা ‘স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশন’-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।প্রচারাভিযানে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি ফেসিলেটর জনাব কান্তা বনিক, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের মনিটরিং কর্মকর্তা জনাব স্নেহজয় চৌধুরী টিটু, সমন্বয়কারী জনাব মো: আব্দুল মন্নান বক্তব্য রাখেন। কর্মসূচীতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহন করেন এবং সকলে প্লাস্টিক সামগ্রী বর্জন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
উক্ত কর্মসূচীর মাধ্যমে ২০০কেজি পরিত্যাক্ত প্লাস্টিক বোতল ও প্লাস্টিক সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়। প্রতি কেজি প্লাস্টিকের জন্য ১টি করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সাবান ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রচারাভিযানে উপস্থিত সকলকে নিজের, পরিবারের এবং আশেপাশের পরিবেশ সুন্দর ও স্বাস্থ্য সম্মত রাখার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়।