
মানব সময় ডেস্ক :
৩ মে— বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য: “শান্তিময় ভবিষ্যৎ গঠনে গণমাধ্যম”। এমন এক সময়ে এ দিবসটি আমাদের সামনে আসে, যখন বিশ্বজুড়ে তথ্যপ্রবাহ যেমন দ্রুততর হয়েছে, তেমনি সত্য ও বিভ্রান্তির মধ্যকার সীমারেখাও ক্রমেই সূক্ষ্ম হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতায় শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
২০২৬ সালের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে (আরএসএফ)-এর তথ্যমতে, ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম। দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তুলে ধরে এবং গণমাধ্যমের সক্ষমতা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে তথ্যপ্রবাহ আজ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সহজ ও বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়িয়েছে, তবে একই সঙ্গে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিস্তারও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ও যাচাইকৃত তথ্য পরিবেশন আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শান্তিময় ভবিষ্যৎ গঠনে সঠিক তথ্যের ভূমিকা অপরিসীম। নির্ভরযোগ্য তথ্য সমাজে আস্থা তৈরি করে, বিভ্রান্তি কমায় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করে। ফলে গণমাধ্যম শুধু সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যম নয়; এটি সচেতনতা, সংলাপ এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এই নীতিগত ভিত্তি গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালনে অনুপ্রাণিত করে। একটি কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং পেশাদার গণমাধ্যম সমাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উন্নয়ন কার্যক্রম, নীতি নির্ধারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্যের কোনো বিকল্প নেই।
এক্ষেত্রে সরকার, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা, তথ্য যাচাই এবং নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ— এসব বিষয় গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার তথ্যপ্রবাহকে আরও কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস আমাদের এই বার্তাই দেয়— একটি শান্তিপূর্ণ, উন্নত ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম অপরিহার্য।
আজকের প্রত্যাশা হোক— আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলব, যেখানে তথ্য হবে নির্ভরযোগ্য, গণমাধ্যম হবে দায়িত্বশীল, এবং উন্নয়ন হবে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক। কারণ, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই পারে একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও শান্তিময় ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে।
(লেখক:মহাসচিব, বাংলাদেশ সাংবাদিক ক্লাব)