
সিটি প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী কদম মোবারক এতিমখানায় গত রোববার সন্ধ্যায় ৩৩০ জন এতিম শিশুর মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কম্বল বিতরণ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং কদম মোবারক এতিমখানা গভর্নিং বডির সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান , কদম মোবারক এতিমখানা গভর্নিং কমিটির অর্থ সম্পাদক ইঞ্জি: মো: জাবেদ আবছার চৌধুরী।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাশেম, হল সুপার মো: আব্দুল মুবিন, হিসাব রক্ষক মো: শহীদুল্লাহ, অফিস সহকারি মো: আনোয়ার হোসেন, প্রতিষ্টান সমূহের প্রতিষ্টাতা ও দানবীর মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদির নাতি গাজী ইসলামাবাদী, হাফেজ মো: সেলিমসহ এতিমখানার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক আবুল কাসেম বলেন, “জেলা প্রশাসকের সরাসরি উপস্থিতি ও এই মানবিক সহায়তা আমাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। শিশুদের মুখের হাসিই প্রমাণ করে—এই ভালোবাসা কতটা মূল্যবান।”এতিমখানা পরিচালনা কমিটির অর্থ সম্পাদক ইঞ্জি: মো: জাবেদ আবসার চৌধুরী বলেন, “ডিসি স্যার নিঃসন্দেহে একজন মানবিক মানুষ। এতিম শিশুদের সংখ্যা জানার পরই তিনি তিন শতাধিক কম্বল পাঠিয়েছেন। তাঁকে খুব অমায়িক, ভদ্র ও আন্তরিক মনে হয়েছে। একজন মানবিক মানুষ না হলে নিজ উদ্যোগে এতিম ও অসহায়দের খোঁজ নেওয়া, দরখাস্ত আহ্বান করা এবং নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করা সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জেলা প্রশাসকের মানবিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে।এতিমখানার হল সুপার আব্দুল মোবিনও জেলা প্রশাসকের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন “চার দশকের দায়িত্বকালীন সময়ে এমন মানবিক জেলা প্রশাসক আমি দেখিনি। তিনি অত্যন্ত অমায়িক ও আন্তরিক। প্রতিটি শিশুর সঙ্গে কথা বলেছেন, তাদের সমস্যার কথা জানতে চেয়েছেন।”এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। শীতবস্ত্রের সঙ্গে যদি সামান্য ভালোবাসা ও মানবিক স্পর্শ পৌঁছে দিতে পারি, সেটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।” তিনি আরও বলেন,“এই শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ, সুন্দর ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ-উভয়ের সম্মিলিত দায়িত্ব।” সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক। অনুষ্ঠান শেষে এতিম শিশুরা শীতের কম্বল পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে এবং আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।