
কোরবান আরবি শব্দ যার আভিধানিক অর্থ হলো নৈকট্য লাভ, বা কাছে যাওয়া। নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু জবাই করাই হল কোরবানি, নিজের ভেতরের পশুত্ব এবং আমিত্বকে বিসর্জন দিয়ে আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন করাই কোরবানির মূল শিক্ষা , অথচ আমরা করছি কি, শত শত মানুষ এখন লোক দেখানো কোরবানি নিয়ে ব্যস্ত, কার চেয়ে কে বড় গরু কিনে তাই নিয়ে কঠিন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত, কি অদ্ভুত বিষয় ফ্রিজের দোকান গুলোতে কুরবানীর চেয়ে বেশি ফ্রিজ বিক্রি হয়, কোরবানির মাংসের একটা বৃহৎ পরিমাণ অংশ সংরক্ষিত হিমাগারের মতো জমা থাকে মানুষের ডিপ ফ্রিজে , এটা ত্যাগ নয় এটা ভোগের কোরবানি, সারা বছর অল্প আয়ের যে গরিব মানুষ গুলো মাংস কিনে খেতে পারে না, তার হক আদায় না করে ,আমরা পরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য যেমন মেয়ের জন্মদিন, ছেলের জন্মদিন, বিবাহ অনুষ্ঠান, মেহমান দাওয়াত খাওয়ানোর জন্য মাংসের প্যাকেট গিট্টা মেরে গায়ে লিখে , ফ্রিজে সংরক্ষিত করে রাখি আগামী বছর পর্যন্ত, আমরা ভুলে যাই, গরিব মানুষের হক আদায়। আল্লাহ পাক আমাদের কাছে কি চায়? বা কি পাঠাতে পারি আমরা আল্লাহপাকের কাছে, আমরা তো মনের ভেতরে জমে থাকা হিংস্র পশুটাকে কোরবানি দিতে পারছিনা, আমরা জানি আমাদের সমাজটাকে পরিবর্তন করা উচিত আমাদের দেশটাকে পরিবর্তন করা উচিত কিন্তু আমরা কেউ আমাদের মনটাকে পরিবর্তন করছি না , প্রত্যেক প্রাণীর মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে কিন্তু আমরা মৃত্যুর আগে আমাদের নফস পরিষ্কার করছি না, আমরা পরিশুদ্ধ হচ্ছি না, আমাদের মনে রাখতে হবে সৃষ্টিকর্তা মুখের কথা শুনে না সৃষ্টিকর্তা সবসময় অন্তরের কথা শুনে, আসুন আল্লাহ সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানির পাশাপাশি , আমরা আমাদের অন্তরের হিংস্র পশুটা কে ও চিরতরে কোরবানি করি।