মানব সময় সাহিত্য ডেস্ক :
একসময় বলা হতো, তরুণরাই একটি জাতির ভবিষ্যৎ। কথাটি আজও সত্য, কিন্তু সেই ভবিষ্যতের মুখে এখন অনেক প্রশ্ন। বাংলাদেশের অসংখ্য তরুণ আজ স্বপ্ন দেখে, পরিকল্পনা করে, সংগ্রাম করে। অথচ তাদের পথচলায় বারবার এসে দাঁড়ায় বাস্তবতার কঠিন দেয়াল। স্বপ্ন ও বাস্তবতার এই সংঘাতই যেন আজকের তরুণ প্রজন্মের সবচেয়ে বড় গল্প।একজন তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় বড় কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে। কেউ চিকিৎসক হতে চায়, কেউ গবেষক, কেউ উদ্যোক্তা, কেউ বা সমাজ পরিবর্তনের কর্মী। চারপাশের মানুষও তাকে নিয়ে আশা বুনতে থাকে। কিন্তু শিক্ষাজীবনের শেষ প্রান্তে এসে সে আবিষ্কার করে, শুধু স্বপ্ন থাকলেই হয় না; প্রয়োজন সুযোগ, দক্ষতা, সঠিক পরিবেশ এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা।আজকের তরুণদের একটি বড় অংশ এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। একটি চাকরির জন্য হাজার হাজার আবেদন জমা পড়ছে। যোগ্যতা অর্জনের দৌড়ে অনেকে নিজের সামর্থ্যের চেয়েও বেশি পরিশ্রম করছে। তবু কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছানো সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেকের মধ্যে জন্ম নিচ্ছে হতাশা, অনিশ্চয়তা এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট।তবে সমস্যার মধ্যেও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। বর্তমান প্রজন্ম আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সচেতন। তারা শুধু চাকরির দিকে তাকিয়ে নেই; উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নও দেখছে। কেউ অনলাইনে ব্যবসা শুরু করছে, কেউ প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গড়ে তুলছে, কেউ আবার নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক বাজারে কাজ করছে। এই পরিবর্তন প্রমাণ করে, তরুণরা কেবল সুযোগের অপেক্ষায় বসে নেই; তারা নিজেরাই নতুন সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছে।কিন্তু এখানেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সমাজে এখনও এমন একটি ধারণা প্রবল যে সফলতা মানেই একটি নির্দিষ্ট ধরনের চাকরি। ফলে ভিন্ন পথে এগোতে চাওয়া অনেক তরুণ পরিবার ও সমাজের চাপের মুখে পড়ে। তাদের স্বপ্নকে অনেক সময় গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অথচ ইতিহাস বলে, বড় পরিবর্তনগুলো প্রায়ই প্রচলিত পথের বাইরে হাঁটা মানুষদের হাত ধরেই এসেছে প্রযুক্তির যুগ তরুণদের সামনে যেমন অসীম সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে, তেমনি নতুন সংকটও তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাফল্য দেখে অনেকেই নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করতে শুরু করে। বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা না করে তারা নিজেদের তুলনা করে সাজানো ছবির সঙ্গে। এতে মানসিক চাপ বাড়ে, আত্মবিশ্বাস কমে যায়। অথচ সত্য হলো, প্রতিটি মানুষের পথ আলাদা, সংগ্রাম আলাদা এবং সফলতার সময়ও আলাদা।বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলোও তরুণদের মধ্যে নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছে। তারা একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং সম্ভাবনাময় দেশ দেখতে চায়। তারা চায় যোগ্যতার মূল্যায়ন, ন্যায়বিচার এবং সমান সুযোগ। এই প্রত্যাশা শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের প্রত্যাশা। তবে পরিবর্তনের দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্র বা সমাজের নয়। তরুণদেরও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। নতুন দক্ষতা অর্জন, পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা সঞ্চয়, ইতিবাচক মানসিকতা গঠন এবং নৈতিক মূল্যবোধ চর্চা আজ অত্যন্ত জরুরি। কারণ সুযোগের দরজা খুললেও প্রস্তুত না থাকলে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায় না। আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ জনগোষ্ঠী। এই শক্তিকে সঠিক পথে কাজে লাগানো গেলে দেশ অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। প্রয়োজন শুধু স্বপ্ন দেখার নয়, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করারও। স্বপ্ন ও বাস্তবতার সংঘাত নতুন কিছু নয়। ইতিহাসের প্রতিটি প্রজন্মই এই সংঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। কিন্তু যারা হাল ছাড়েনি, তারাই শেষ পর্যন্ত পথ তৈরি করেছে। আজকের তরুণদের কাছেও তাই সবচেয়ে বড় আহ্বান হলো, হতাশার কাছে আত্মসমর্পণ নয়; বরং নিজেদের শক্তি, মেধা ও সততার ওপর ভর করে এগিয়ে চলা। কারণ একটি দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে শুধু নীতিমালা দিয়ে নয়, গড়ে ওঠে তার তরুণদের স্বপ্ন, সাহস এবং অবিচল প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে। আর যে জাতির তরুণেরা স্বপ্ন দেখতে জানে, সংগ্রাম করতে জানে, সেই জাতির ভবিষ্যৎ কখনও অন্ধকার হতে পারে না।
Editor : Md.Moslauddin (Bahar) Cell: 01919802081 Dhaka Office :: Manni Tower, Road 09,House : 1258 Mirpur Dhaka. Cell:01747430235 email : manobsomoynews@gmail.com Chattogram office :: Lusai Bhaban,( 2nd Floor) Cheragi Pahar Circle, Chattogram. Cell: 01919802081
© All rights reserved manobsomoy