পিতার সম্পত্তি কোনো এক সন্তান বা ব্যক্তিকে লিখে দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও উত্তরাধিকার বিধি অনুযায়ী বেশ সংবেদনশীল। পিতা যদি জীবিত অবস্থায় তার সকল সম্পত্তি একজনকে দিয়ে যান, তবে অন্যদের আইনগত অবস্থান কী হবে তা নির্ভর করে সম্পত্তিটি কীভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে তার ওপর।
নিচে এই সংক্রান্ত আইনি দিক ও করণীয়গুলো আলোচনা করা হলো:
১. হস্তান্তরের ধরন যাচাই করুন
প্রথমে দেখতে হবে পিতা সম্পত্তিটি কীভাবে হস্তান্তর করেছেন:
হেবা বা দান (Gift):
যদি পিতা সুস্থ মস্তিস্কে এবং কারো দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে স্বেচ্ছায় একজনকে ‘হেবা’ বা ‘দান’ করে যান এবং সেই দলিলের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়, তবে সাধারণত এটি বৈধ। মুসলিম আইনে সুস্থ অবস্থায় পিতা তার সব সম্পত্তি যেকোনো একজনকে দান করে যেতে পারেন।
অসিয়ত (Will):
যদি পিতা অসিয়ত করে যান যে, "আমার মৃত্যুর পর সব সম্পত্তি অমুক পাবে," তবে মুসলিম আইনে সেই অসিয়ত মোট সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের (1/3) বেশি কার্যকর হবে না (যদি না অন্য ওয়ারিশরা এতে সম্মতি দেয়)।
২. চ্যালেঞ্জ করার আইনি ভিত্তি (Grounds for Challenge)
যদি সম্পত্তিটি দলিলের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে, তবে বাকি ওয়ারিশরা নিম্নলিখিত কারণে আদালতে মামলা করতে পারেন:
মানসিক ভারসাম্যহীনতা: হস্তান্তরের সময় পিতা যদি মানসিক ভারসাম্যহীন বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় না থাকেন।
প্রতারণা বা বলপ্রয়োগ:
যদি তাকে ভুল বুঝিয়ে, ভয় দেখিয়ে বা জালিয়াতির মাধ্যমে দলিলে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
অনিবন্ধিত দলিল:
সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল যদি যথাযথভাবে রেজিস্ট্রি করা না থাকে, তবে তার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
দখল হস্তান্তর না হওয়া:
হেবা বা দানের ক্ষেত্রে শুধু দলিল করলেই হয় না, সম্পত্তির দখল (Possession) বুঝিয়ে দিতে হয়। দখল বুঝিয়ে না দিলে সেই দানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায়।
৩. প্রতিকারের উপায় ও মামলা
বাকি ওয়ারিশদের করণীয় পদক্ষেপগুলো হলো:
দলিল বাতিলের মামলা (Cancellation of Deed): যদি মনে হয় দলিলটি জালিয়াতি বা জোরপূর্বক করা হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে দেওয়ানি আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করতে হবে।
ঘোষণামূলক মামলা (Declaratory Suit): উত্তরাধিকারীরা আদালতে এই মর্মে ঘোষণার জন্য মামলা করতে পারেন যে, ওই বিতর্কিত দলিলটি অবৈধ এবং তারা উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির অংশীদার।
বাটোয়ারা বা বন্টন মামলা (Partition Suit):
যদি সম্পত্তিটি এখনো পৈতৃক হিসেবেই থাকে এবং কোনো বৈধ হস্তান্তর না হয়ে থাকে, তবে নিজেদের প্রাপ্য অংশ বুঝে পেতে বাটোয়ারা মামলা করা যায়।
৪. গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
সময়সীমা (Limitation):
দলিল বাতিলের মামলা সাধারণত দলিল হওয়ার বা বিষয়টি জানার ৩ বছরের মধ্যে করতে হয়। তাই দেরি করা ঠিক হবে না।
রেকর্ড যাচাই:
ভূমি অফিসে (AC Land) গিয়ে দেখুন সম্পত্তির নামজারি (Mutation) কার নামে হয়েছে। যদি জালিয়াতি ধরা পড়ে, তবে নামজারি বাতিলের জন্য আপিল করা যেতে পারে।
পরামর্শ:
সম্পত্তির বর্তমান দলিলের নকল (Certified Copy) সংগ্রহ করে একজন অভিজ্ঞ দেওয়ানি আইন বিশেষজ্ঞ বা আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করা জরুরি। কারণ দলিলের প্রকৃতি এবং হস্তান্তরের সময় পিতার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
ধন্যবাদান্তে
এ্যাডভোকেট শাহানারা খাতুন (শানু)
বি.এস.এস(১ম শ্রেনী)এম.এস.এস( ১ম শ্রেনী ৩৬তম মেধা তালিকা)
এলএল.বি, এলএল.এম ( DIU)
জজকোর্ট, ঢাকা।
Editor : Md.Moslauddin (Bahar) Cell: 01919802081 Dhaka Office :: Manni Tower, Road 09,House : 1258 Mirpur Dhaka. Cell:01747430235 email : manobsomoynews@gmail.com Chattogram office :: Lusai Bhaban,( 2nd Floor) Cheragi Pahar Circle, Chattogram. Cell: 01919802081
© All rights reserved manobsomoy