মানব সময় সাহিত্য ডেস্ক :
দরজায় কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ। এরই মধ্যে আমাদের মা, মাসি, চাচিরা ঘর গোছানো ধোয়ামোছার কাজ শুরু করে দিয়েছেন।পহেলা বৈশাখে বিশেষ করে, গ্রামের ঘর বাড়িগুলোতে আগেভাগে ধোয়ামোছার কাজ শেষ হয়।বিশেষ করে মাটির বাড়িগুলো লেপানো হয়।অনেকে বাড়ির দরজার সামনে বিউফুল,বেলপাতা ও নিমপাতা টাঙিয়ে রাখেন মঙ্গলের জন্য। এইসময় বেশিরভাগ বাড়িগুলোতে খই ও কড়ইয়ের নাড়ু তৈরি করা হয়। আটকড়িয়া নামক একটি খাবার আছে যেটি তৈরি করা হয় চালভাজা ও নানা ডাল ও বিচি ভাজির সমন্বয়ে ওখানে বাদাম ও দেওয়া হয়। আমাদের মহামুনি পাহাড়তলী গ্রামের বৈশাখী মেলা কয়েকশো বছরের পুরনো।বিশেষ করে আমাদের মহামুনি মন্দিরকে ঘিরে এই মেলা জমে ওঠে। পহেলা বৈশাখের আগের দিন হয় পাহাড়ি মেলা, বিশেষ করে তিন পার্বত্য জেলা থেকে আদিবাসী বৌদ্ধরা এই মেলায় যোগ দেয়। পহেলা বৈশাখের আগে আমাদের গ্রামে ভগবান গৌতম বুদ্ধকে স্নান করানোর প্রচলন আছে।তাছাড়া প্রতিটি বাড়িতে মাছ,মাংস সহ নানা বাজার করে রাখা হয় কারণ পহেলা বৈশাখে, আমাদের গ্রামে নানা অনুষ্ঠানে অতিথিরা যোগ দেন ও প্রতিটি বাড়িতেই অতিথিরা আসেন।আমাদের গ্রামে দুটো সংগঠন মহামুনি তরুণ সংঘ ও মহামুনি সংস্কৃতি সংঘ।দুটো সংগঠনোর সদস্য ও কর্মীরা মনোমুগ্ধকর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন যার মধ্যে নাচ, গান,আবৃত্তি, বিচিত্রা অনুষ্ঠান ও নাটক পরিবেশিত হয়। পহেলা বৈশাখের দিন সকালবেলা মুক্তাঙ্গন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পহেলা বৈশাখকে বরণ করা হয়।সেই সাথে রাতের অনুষ্ঠান তো আছেই।এইসময় জমে ওঠে বৈশাখী মেলা।মেলায় ওঠে মেয়েদের নানা প্রসাধন,চুড়ি ফিতা,মালা,নানা খেলনা বাঁশি ঢোল,হাতপাখা, পাটি, মোড়া ও মাটির তৈরি জিনিস। তাছাড়া নানা খাবারের দোকানেও লোকজনের ভিড় হয়। সকাল ও সন্ধ্যায়, মন্দিরে,মন্দিরে চলে প্রার্থনা। পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির শেকড় ও অংশ একে বাঁচিয়ে রাখতে হবে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
(সোমা মুৎসুদ্দী
লেখক, আবৃত্তিকার ও উপস্থাাপিকা
নন্দনকানন, চট্টগ্রাাম)
Editor : Md.Moslauddin (Bahar) Cell: 01919802081 Dhaka Office :: Manni Tower, Road 09,House : 1258 Mirpur Dhaka. Cell:01747430235 email : manobsomoynews@gmail.com Chattogram office :: Lusai Bhaban,( 2nd Floor) Cheragi Pahar Circle, Chattogram. Cell: 01919802081
© All rights reserved manobsomoy