বিশেষ প্রতিবেদন :
আ জ কে র মা ন ব স ম য় :
----------------------------
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁক করা জায়েজ (বৈধ), হযরত মুহাম্মদ (দরুদ) নিজে ও রুকইয়াহ করেছেন এবং সাহাবীদের করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে,এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ইসলামে রুকইয়াহর বিধানকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.) রুকইয়াহ জায়েজ হওয়ার এই তিনটি শর্ত তাঁর বিখ্যাত কিতাব "আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন এর ২য় খণ্ডে (চিকিৎসা ও রুকইয়াহ অধ্যায়ে) উল্লেখ করেছেন যে, ১) এটি আল্লাহর কালাম (কুরআন) ও তাঁর নাম বা গুণাবলীর মাধ্যমে হতে হবে। ২) এটি আরবি ভাষায় বা এমন স্পষ্ট ভাষায় হতে হবে যার অর্থ বোঝা যায়। ৩) বিশ্বাস রাখতে হবে যে, রুকইয়াহ নিজে কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারে না; বরং আরোগ্য দানকারী একমাত্র আল্লাহ। ইমাম সুয়ূতী (রহ.) ছাড়াও এই একই শর্তগুলো হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'ফাতহুল বারী' (সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ১০ম খণ্ড) এবং ইমাম কুরতুবী (রহ.) তাঁর তাফসীর গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
ইসলামী শরীয়তে রুক্বইয়াহ শরইয়াহ কে সুন্নাত বলা হয়েছে। হাদীসে এসেছে, নবীজী (দরুদ) অসুস্থ হলে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে নিজের শরীরে ফুঁ দিতেন। জিবরাঈল (আ.) এসে নবীজী (দরুদ) কে রুকইয়াহ করে দিয়েছিলেন। হাদীসে এসেছে: "যে পর্যন্ত তাতে শিরক না থাকে,সে পর্যন্ত রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক) করাতে কোনো দোষ নেই। (সহীহ মুসলিম শরীফ। হাদীস নং ২২০০) তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন : ৫৪৬২, হাফেজ আব্দুল্লাহ পাবলিকেশন: ২১৯১)।
আলোচ্য হাদীস শরীফ হতে জানতে পারি, শিরক মুক্ত রুকইয়াহ বৈধ: যেকোনো দোয়া বা কালাম যা শিরকমুক্ত এবং যার অর্থ স্পষ্ট, তা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা জায়েজ। তবে তা পরীক্ষা করতে হবে।যেমন, সাহাবীগণ তাদের পূর্বের পদ্ধতি নবীজী (দরুদ) কে দেখিয়ে নিশ্চিত হয়ে নিয়েছিলেন, যা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় যে কোনো আমল করার আগে তা শরীয়তসম্মত কি না যাচাই করা উচিত। তবে উত্তম হল কুরআনী রুকইয়াহ করা। যেহেতু কুরআনের আয়াত শিরকমুক্ত, তাই এটিই রুকইয়াহর শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
তবে, রুক্বইয়াহ কখনো কখনো শিরক বা হারাম হয়ে যায়। যদি নিচের বিষয়গুলো রুকইয়াহর মধ্যে থাকে, তবে তা ইসলামে নিষিদ্ধ। যেমন, অস্পষ্ট ভাষা: জিন বা শয়তানের নাম ধরে ডাকা বা দুর্বোধ্য কোনো মন্ত্র পাঠ করা। তাকদিরে অবিশ্বাস: যদি কেউ মনে করে যে রুকইয়াহ নিজেই রোগ ভালো করে দেয় (আল্লাহর হুকুম ছাড়া), তবে তা শিরক।
শিরকি তুকতাক: তাবিজ, কড়ি, সুতা বা এমন কিছু ব্যবহার করা যা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমান সময়ে ইসলামী রুক্বইয়াহর নামে অসুস্থ (মা-বোনদের) ভিডিও বা ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে যাতে শরীয়তের বিধান (পর্দা) লঙ্ঘন হচ্ছে। তা ছাড়া এটার মাধ্যমে মহিলাদের ব্যক্তিগত মর্যাদাহানি ও মানহানি হচ্ছে। তথাকথিত "জ্বিন হাজির" এর নামে ছড়ানো হচ্ছে নতুন নতুন ফিতনা। অদেখা প্রাণীর নামে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে নানান প্রকার কল্পকাহিনী। অসাধু কবিরাজ, প্রতারক তান্ত্রিকরা সরল সহজ মানুষ কে বোকা বানিয়ে দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। অনেক মা-বোন হারাচ্ছে নিজেদের ইজ্জত সর্বস্ব। প্রতারনার শিকার হচ্ছে অহরহ।
তাছাড়া ইসলামের নামে চালানো হচ্ছে হারাম ও গর্হিত কর্মকাণ্ড। বর্তমানে মুসলিম সমাজে রুক্বইয়াহ এর নামে আর তথাকথিত "জ্বিন হাজিরের" নামে মানা হচ্ছে না ইসলামের গুরুত্বপূর্ন পর্দার বিধান। অথচ,ইসলামে নারী-পুরুষের পর্দার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পর্দা লঙ্গন হয় এমন কোন ইবাদত নাই ইসলামে। পর্দার বিধান মেনে চলে সকল কাজ আন্জাম দেয়ার জন্য ইসলামে আদেশ রয়েছে। সুতরাং কোন অবস্থাতেই পর্দা নষ্ট হয় এমন কাজ করা যাবে না।
তাছাড়া, রুকইয়াহ এর নামে তথাকথিত "জ্বিন হাজির" করা, তাও নারীর শরীরের উপর ভর করা; জ্বিনের উপস্থিতি হেতু (রাক্বীদের ভাষায়),নারীর কাপড় এলোমেলো হয়ে যায় প্রায় সময়। যার উপর জ্বিন হাজির হয় (রাক্বিদের ভাষায়), তারা অনেক সময় অস্বাভাবিক আচরণ ও অঙ্গভঙ্গি করতে পারে এমন কি রোগির আওয়াজ বদলেও যেতে পারে। এমন অবস্থায় সেই অসুস্থ নারীকে ক্যামেরার সামনে রাখা ও ভিডিও ধারণ করে জনসম্মুখে প্রচার করা এটা কখনো সমীচীন নয়। এটা উচিত না। গর্হিত কাজ।
এবিষয়ে বুখারী শরীফের হাদীস নং ৫৬৫২ এবং মুসলিম শরীফের হাদীস নং ২৫৭৬ - এ বর্ণিত হয়েছে।আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মদ (দরুদ) এর যুগে একজন নারী মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজেকে সামলাতে পারতেন না বলে দু‘আ চেয়েছিলেন। নবীজী (দরুদ) তাকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এই শর্তে যে তিনি যেন সবর করেন এবং তার শরীর যেন অনাবৃত না হয়। মানে পর্দার বিধান মেনে চলে। সেই নারী জান্নাতের আশায় রোগ থেকে মুক্তির চেয়ে ধৈর্যের পথ বেছে নিয়েছিলেন, কিন্তু নিজের সতর বা পর্দা রক্ষায় তিনি ছিলেন আপোষহীন। একজন মুমিন নারীর কাছে পর্দার মর্যাদা কত বেশি, এটি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেই যুগেও পর্দার যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হত। সুতরাং পর্দা নষ্ট হয় এমন কোন কাজ বা আমল করা যাবে না। এটা শরীয়তে নিষেধ রয়েছে।
তাছাড়া অসুস্হ রোগির উপর "তথাকথিত জ্বিন হাজির" করে যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তারমধ্যে কয়েকটি খুবই ভয়াবহ ও মর্যাদাহানিকর। যেমন, রোগির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হওয়া। অর্থাৎ, জ্বিনে ধরা বা যাদুগ্রস্হ কোন রোগি সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর যখন দেখেন ইউটিউবে,ফেসবুকে তথা সোশাল মিডিয়ায় তার সেই অস্বাভাবিক অবস্থার ভিডিও হাজার হাজার মানুষ দেখছে, তখন তিনি মানসিক ভাবে ক্ষতি গ্রস্হ হন। খুবই লজ্জিত হন। তার মানহানি হয়, যা যাদুর চেয়েও মারাত্মক হতে পারে। এটি তার সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে।
তা ছাড়া "জ্বিন হাজির" হওয়ার নামে যে সার্কাস বা বিনোদনের সৃষ্টি হয়, এটা খুবই লজ্জাজনক একটা বিষয়। এটা কারো জন্য কখনো উচিত না। কারন জ্বিন যদিও কোন রাক্বির সামনে বা রোগির শরীরের উপর হাজিরও হয়, সেটা নিয়ে কেন হাস্যরস বা গল্পের সৃষ্টি হবে? কোরআন-সুন্নাহ মতে কোন তরিকা থাকলে তার পদ্ধতি ব্যবহার করে অসুস্থ রোগি কে সেবা দেয়া কি যায়না? এটার শরয়ী বিধান মতে সুন্নাহের আমলের সহিত কোরআনিক সেবা দিতে রাক্বিদের আপত্তি কোথায়? তবে কেন "জ্বিন হাজির" এর নামে অসুস্থ মা-বোনদের কে ভিডিও ধারন করে পাবলিকলি প্রচার করতে হবে? অথচ এটা শরীয়তে নিষেধ রয়েছে।
তবে ইসলামী রুক্বইয়াহ এর শরয়ী সমাধান ও মূলনীতি বিষয়ে আহলে সুন্নাতের ওলামায়ে কেরাম (যেমন: দেওবন্দী, বেরলভী ও সালাফী ধারার নির্ভরযোগ্য আলেমগণ) একমত যে: ১) সুন্নাহ পদ্ধতি: শুধু তিলাওয়াত ও দোয়া হবে মূল চিকিৎসা।২) হাজির করা নয়: উদ্দেশ্য হবে জিনকে বিতাড়িত করা বা ধ্বংস করা, তাকে "হাজির" করে কথা বলানো নয়। ৩) আকিদা ঠিক রাখা: সুস্থতা কেবল আল্লাহর হাতে। জিনের কথা বা হাজির হওয়ার ওপর সুস্থতা নির্ভর করে না। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা ও ফিকহী মূলনীতি অনুযায়ী,"তথাকথিত জিন হাজির করা" এবং তার মাধ্যমে চিকিৎসা করাকে অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম নাজায়েজ, বিপজ্জনক এবং ফেতনার উৎস হিসেবে গণ্য করেছেন।আহলে সুন্নাতের নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ও মূলনীতিগুলো নিচে তুলে ধরা হল।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) এর ফতোয়া। আহলে সুন্নাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) তাঁর 'মাজমুউল ফাতাওয়া' গ্রন্থে জিন ও মানুষের সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার সারকথা হলো: জিনের মাধ্যমে কোনো সাহায্য নেওয়া বা তাকে হাজির করার চেষ্টা করা মাকরূহে তাহরীমী (হারামের কাছাকাছি)। যদি জিন হাজির করে তার মাধ্যমে গায়িবের (অদৃশ্যের) সংবাদ জানার চেষ্টা করা হয়, তবে তা হারাম ও কুফরির শামিল। তবে যদি রুকইয়াহ (কুরআন তিলাওয়াত) করার সময় জিন নিজে থেকে হাজির হয়ে যায়,তবে তাকে কেবল আল্লাহর ভয় দেখানো এবং শরীয়তের দাওয়াত দেওয়া জায়েজ।
মারিফাতুল জিন বা জিন হাজির করার বিষয়টি নিয়ে সমকালীন ওলামায়ে কেরাম এবং ফতোয়া বোর্ডগুলোর অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। ইসলামি শরীয়াহ অনুযায়ী এটি সরাসরি হারাম বা শিরক না হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি নাজায়েজ এবং বর্জনীয়। সৌদি আরবের ফতোয়া বোর্ড (Lajnah Ad-Daimah) সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ ও ফতোয়া বোর্ড এই বিষয়ে স্পষ্ট ফতোয়া দিয়েছে: বিনা প্রয়োজনে জিন হাজির করা: কোনো কারণ ছাড়া বা নিছক কৌতূহলবশত জিন হাজির করা নিষিদ্ধ। জিন থেকে তথ্য নেওয়া: জিনের দেওয়া তথ্য বিশ্বাস করা জায়েজ নেই। কারণ তারা সাধারণত মিথ্যাবাদী হয় (সহীহ বুখারী)। বিবাদ সৃষ্টি: জিনের কথা বিশ্বাস করে কাউকে চোর, তান্ত্রিক বা শত্রু সাব্যস্ত করা হারাম। এটি পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে।
শায়খ ইবনে উসাইমিন ও বিন বাজ (রহ.) মাজমুউ ফাতাওয়া বিন বাজ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৯৭-৩১০ (জিন ও জাদুর চিকিৎসা অধ্যায়)-এ বিখ্যাত ফকিহগণ বলেছেন, যদি রুকইয়াহ (কুরআন তিলাওয়াত) করার সময় জিন নিজে থেকে কথা বলে ওঠে, তবে তাকে ধমক দেওয়া বা আল্লাহর আদেশ মানতে বলা যাবে। কিন্তু আগে থেকে পরিকল্পনা করে বা আয়োজনের মাধ্যমে "জিন হাজির" করা সুন্নাহর পদ্ধতি নয়। এটি অনেক সময় ভণ্ডামির দুয়ার খুলে দেয়।
এ বিষয়ে ফাতাওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ (আজিজুল ফাতাওয়া), খণ্ড-১, কিতাবুল আকিদা।
মতে, উপমহাদেশের শীর্ষস্থানীয় ফতোয়া কেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দের মতে, এটা অবৈধ মাধ্যম। জিন হাজির করার জন্য যদি কোনো শির্কী মন্ত্র, ধোঁয়া বা কুফরি কালাম ব্যবহার করা হয়, তবে তা হারাম ও শিরক। জিনের সাহায্য নেওয়া। কোনো কাজের জন্য জিনের সাহায্য নেওয়া মাকরূহে তাহরীমী। কারণ এতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ক্ষুণ্ণ হয় এবং জিনের ওপর নির্ভরতা বাড়ে যা ঈমানের জন্য ক্ষতিকর।
ফতোয়া-এ-শামী ও হানাফী মাযহাবের অবস্থান
হানাফী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য ফতোয়ার কিতাব 'ফাতাওয়া-এ-শামী' (রদ্দুল মুহতার) এবং 'ফাতাওয়া-এ-আলমগিরি'-তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। জিনের সাহায্য নেওয়া বা জিনের বশ্যতা স্বীকার করা জায়েজ নেই। জিনের দেওয়া কোনো তথ্য বা সাক্ষ্য শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই জিনকে হাজির করে সে কার নাম বলল বা কী বলল, তার ওপর ভিত্তি করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা কবীরা গুনাহ। এ বিষয়ে বিস্তারিত নিন্মের কিতাব গুলাতেও বর্ননা এসেছে। "আল-আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ" ও ফাতাওয়ায়ে শামী (রদ্দুল মুহতার) এবং মাজমুউ ফাতাওয়া বিন বাজ (খণ্ড ৩)। আধুনিক গবেষণা: আর-রুকইয়াতুশ শারইয়াহ (ড. সাঈদ বিন আলী আল-কাহতাহানী)।
সুনানে আবু দাউদ এর হাদীস নং ৪০৩১ এর তথ্য সূত্রে ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী, ফাতহুল বারী (খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ২০৬)। এর রেফারেন্সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা অনুযায়ী এই পদ্ধতিটি কেন বর্জনীয় তার ৪টি প্রধান কারণ।
১) গায়েবের দাবি: জিন হাজির করে তার কাছে অতীত বা ভবিষ্যতের খবর জানতে চাওয়া আল্লাহর গুণের সাথে শরিক করার নামান্তর (শিরক ফিদ-দাত)।২) মিথ্যাচার: হাদীসে এসেছে, জিনেরা মিথ্যাবাদী। তাদের হাজির করে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা অসম্ভব।৩) অমানবিক নির্যাতন: তথাকথিত হাজির করার সময় রোগীর ওপর যে শারীরিক আঘাত করা হয়, তা শরীয়তে মানুষের সম্মানের পরিপন্থী। ৪) জাদুকরদের সাথে সাদৃশ্য: জাদুকর ও তান্ত্রিকরা জিন হাজির করে কাজ হাসিল করে। একজন মুমিন রুকইয়াহ করার সময় জাদুকরদের এই সাদৃশ্য (তাশাব্বুহ) গ্রহণ করতে পারে না।
সুতরাং রুকইয়াহর নামে কোন অসুস্থ মা বোনদের ভিডিও, লাইভে বা শর্ট ভিডিওতে এগুলো প্রদর্শন করা হতে বিরত থাকতে হবে। বর্তমান সময়ে, ইসলামী রুকইয়াহ এর নামে অনেক তথাকথিত রাক্বী সোশ্যাল মিডিয়ায়, বিভিন্ন পেজ খুলে, সেন্টার খুলে কেবল ভিউ বা ফলোয়ার বাড়ানোর জন্য অসুস্হ নারীদের এই দুর্বল মুহূর্ত গুলোকে সস্তা কন্টেন্ট হিসেবে ব্যবহার করে। এটা কোন ভাবে উচিত নয়। ইসলামে তা গুরুতর অপরাধ। এটি চরম পর্যায়ের আমানত দারিতার খেয়ানত। এখন ফিতনার যুগে পর্দার সাথে থাকলেও অসুস্থ রোগিদের এমন ভিডিও ধারন করে মিডিয়ায় প্রচার করা উচিত নয়। কেননা অসুস্হ নারীর কণ্ঠস্বর বিশেষ করে জ্বিনের প্রভাবে অস্বাভাবিক কণ্ঠ হয়ে যায় এবং তার শারীরিক নড়াচড়া ফেতনার কারণ হতে পারে।
তাছাড়া আধুনিক যুগে ভিডিও এডিট করে বা স্ক্রিনশট নিয়ে অপব্যবহার করার সুযোগ থাকে। ফলে এটি রুকইয়াহর মূল উদ্দেশ্য সুস্হতা (শিফা) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রিয়া ও প্রদর্শনীবাদ-এর দিকে নিয়ে যায়। ফলে কোরআন সুন্নাহ হতে আর জায়েজ থাকেনা। তথ্যসূত্রে জানা যায়,এধরনের কর্মকাণ্ডকে অনৈসলামিক ও গর্হিত কাজ বলেছেন অনেক বিজ্ঞ আলিমগণ। সমাজ হতে দূর করতে হবে এসব ফিতনা। এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে আলেম ওলামাদের। এসব ফিতনার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে। হে দয়াময় আল্লাহ পাক আমাদের কে কোরআন সুন্নাহ মতে জীবন অতিবাহিত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
★লেখক:- সাংবাদিক মুফতি মৌলানা মুহাম্মদ হায়দার আলী (এম.এ)। মাস্টার্স/কামিল হাদিস(ফাস্ট ক্লাস), মাস্টার্স/কামিল ফিকাহ (ফাস্ট ক্লাস) প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আন-নাফিছ ইসলামী রিসার্চ সেন্টার। স্টাফ রিপোর্টার, জাতীয় দৈনিক সোনালী খবর পত্রিকা।
Editor : Md.Moslauddin (Bahar) Cell: 01919802081 Dhaka Office :: Manni Tower, Road 09,House : 1258 Mirpur Dhaka. Cell:01747430235 email : manobsomoynews@gmail.com Chattogram office :: Lusai Bhaban,( 2nd Floor) Cheragi Pahar Circle, Chattogram. Cell: 01919802081
© All rights reserved manobsomoy